যমুনায় জোড়া নৌ-বন্দর; উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

নৌকায় করে ঘাট পার হচ্ছেন যাত্রীরা
নৌকায় করে ঘাট পার হচ্ছেন যাত্রীরা | ছবি: এখন টিভি
0

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনাতে হচ্ছে দুটি অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দর। এতে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। নৌ-বন্দর দুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন গতি।

বগুড়ার পাশের জেলা গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা। জেগেছে সহস্রাধিক চর। এসব চরাঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও নানা প্রতিকূলতায় জীবন মানের উন্নত হয়নি। যাতায়াত ব্যবস্থা, শস্য বিপণনের সুযোগ না থাকা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত এসব অঞ্চলের মানুষ।

বর্ষা কিংবা খরায় সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষের। নৌ-বন্দর বাস্তবায়ন হলে সারিয়াকান্দিঘাট থেকে জামালপুর এবং ময়মনসিংহ রুটের জামথল, মথুরাপাড়া থেকে দেঘিপাড়া অন্যদিকে, ধুনটের শহরাবাড়ী বন্দর থেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার টেকুরিয়াহাট ও বেশাঘীর চরে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবেন এ অঞ্চলের মানুষ। ঘটবে কৃষি বিপ্লব এবং দুয়ার খুলবে পর্যটনের।

স্থানীয়রা জানান, যদি নদীবন্দর হয় এবং যদি বড় বড় জাহাজ চলে, তাহলে এখানকার মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হবে। কারণ হঠাৎ করে মাঝনদীতে গেলে ঝড়-বাতাস উঠলে খুব রিস্ক হয়ে যায়। পণ্য পরিবহনের যে ব্যয় বেশি হতো, সেটা থেকে মোটামুটি কম সাশ্রয়ী মূল্যে পারাপার হতে পারবে।

নৌ-বন্দর দুটি চালু হলে চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য মধ্য-স্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পরিবহনে খরচ কমবে, বন্দর এলাকায় কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী এই নেতা।

চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্টিজ বগুড়ার সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল বলেন, আমাদের সারিয়াকান্দির চর অঞ্চলটা আমরা কাজে লাগাতে পারবো। আমাদের তো উৎপাদিত পণ্য, যা শুধুমাত্র রাস্তা দিয়ে পরবর্তীতে উৎপাদিত পণ্যগুলো আমরা নদীবন্দরের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা এগুলোতে পাঠাতে পারবো। মানুষের অনেক কর্মসংস্থান হবে যদি এই নৌপরিবহন এখানে চালু হয়।

শুধু স্থানীয় যোগাযোগই নয়, এই অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরটির মাধ্যমে বগুড়ার সাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার নৌপথের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যাবে। স্থলপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহনে আরও সহজলভ্য হবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।

বগুড়া-১ এর সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। নদীবন্দরের যে সুবিধাগুলো, সেই সুবিধাগুলোকে আমরা সাধারণ মানুষকে দিতে চাই। এই এলাকার মানুষ বৈষম্যের শিকার ছিল, সেই বৈষম্যগুলো ঘোচাতে চাই।

ইএ

আরও পড়ুন:
এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর
No Article Found!