ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম পেয়ারা চাষ ও কৃষিকাজ। এসব খেটে খাওয়া মানুষের সরলতার সুযোগ নিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য সমবায় সমিতি। এদের উদ্দেশ্য সহজে দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষের পরিশ্রমের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের শিকড় সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির মালিক সুমন মজুমদার সদস্যদের প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এখন লাপাত্তা।
কিছুদিন আগেও ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করা সুমন মজুমদার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল ভবন। এছাড়াও সমিতির শেয়ার হোল্ডারদের নামে ৭ বিঘা জমি ও ডুমুরিয়া বাজারে সমিতি কার্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এই সমিতি ৫ বছরে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
একজন গ্রাহক বলেন, ‘আত্মসাৎ করবে এটাই তাদের চিন্তাধারা ছিল, জনকল্যাণের জন্য তারা কিছু করেনি।’
আরেকজন বলেন, ‘টাকা ফেরত দেব দেব বলতে বলতে একদিন তারা হাওয়া হয়ে গেছে।’
অন্য আরেকজন বলেন, ‘যে ব্যক্তি ৫০০ টাকার বাজার করে ঠিকমতো খেতে পারতো না, সে এখন দোতলা বাড়ির মালিক হয়ে গেছে।’
শিকড় সমবায় সমিতির মতো প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শুধু কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নেই নিঃস্ব হয়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক। সঞ্চয়কারীদের শ্রম ও ঘামের সঞ্চিত প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এসব সমিতির অফিসে এখন ঝুলছে তালা। এতে দিশেহারা সঞ্চয়কারীরা।
সঞ্চয়কারীদের একজন বলেন, ‘এলাকার মানুষের কোটি কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ এখন ফকির প্রায়।’
আরেকজন বলেন, ‘গরু-বাছুর বিক্রি করে অনেকে সেখানে টাকা রাখছে, সেই টাকাগুলো নিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। তারা এখন পথে বসেছে প্রায়।’
এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সমবায় অফিসের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। বেশ কয়েকটি সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়া এ তদন্ত কমিটির নেই উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি।
ঝালকাঠি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল কায়ুম বলেন, ‘ইতোমধ্যেই অনেকগুলো সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং কিছু সমিতির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।’
ঝালকাঠি জেলায় নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ৪৯১টি। এর মধ্যে ১৪টি সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ এসব সমিতির সংখ্যা আরও বেশি।