ধান ক্ষেতের পাশেই লাল গোলাপে ভরা বাগান। রং, সৌন্দর্য আর সুগন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নেত্রকোণার মাটিতে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ফুল চাষ।
শখের বশে শুরু, এখন সেটাই মূল পেশা। কৃষক জালাল উদ্দিন ছয় বছর আগে চট্টগ্রামে হাতে-কলমে শিখে গড়ে তুলেছেন ৪৫ শতাংশ জমিতে গোলাপের বাগান। প্রায় ৯ হাজার গোলাপ গাছে ফুটছে লাল গোলাপ। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে এক হাজারের বেশি ফুল। বিশেষভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে ভালো চাহিদা থাকায় এ মাসে আয়ের লক্ষ্য দেড় লাখ টাকা।
জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধান চাষে বছরে দুইবার করা যাচ্ছে। কিন্তু এই ফুল রাত পেরোলেই প্রতিদিন ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা আসবেই। প্রতিদিনই ফুল থেকে ইনকাম।’
এলাকায় প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হওয়ায় স্থানীয়দের আগ্রহ বাড়ছে। কেউ আসছেন ফুল কিনতে, কেউ বা আসছেন শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এ বাগান করে দিয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমি মামার সাথে সময় দিচ্ছি। মামা একা বাগান সামলে উঠতে পারছে না।’
দর্শনার্থীদের একজন বলেন, ‘পুরাতন যে কৃষি ব্যবস্থা রয়েছে সেখান থেকে আমরা বের হতে পারছি না। যারা বের হতে পারছে তারাই সফল হচ্ছে।’
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ফুল ছড়িয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায়। ফুলের দোকানে যেখানে একটি গোলাপ ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে বাগান থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। তবে ধান উৎপাদন নির্ভর এ জেলায় ফুলের বাগান একেবারেই নতুন। এছাড়া অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে ফুলের বাগান তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘ভবিষ্যতে আশা আছে ফুলের বাগান করার। ধানের চেয়ে এইটা লাভজনক।’
কৃষি বিভাগ জানায়, ধানের পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প চাষে উৎসাহিত করার ফলে সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আরও বাড়বে ফুল চাষ।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘যেসকল চাষিরা ফুল চাষ আবাদ করবে তাদেরকে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দিবো।’
নেত্রকোণায় বর্তমানে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে গোলাপসহ বিভিন্ন ফুল চাষ হচ্ছে। তবে উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থা সহজলভ্য হলে এর পরিমাণ আরো বাড়বে।