এর আগে সকালে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের বরুয়াকোনা এলাকায় মহাদেও নদে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিফাত সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গন্দিরগাঁও গ্রামের সেকুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই মহাদেও নদীতে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। প্রতিদিন অসংখ্য নৌকায় নদীর বালু লুট করছে স্থানীয় একটি চক্র।
বুধবার সকালেও বালু উত্তোলনের সময় পাশাপাশি থাকা দুটি নৌকার মাঝে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন রিফাত। অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শৌভিক শ্রাবণ দত্ত বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই বালু শ্রমিকের রিফাতের মৃত্যু হয়েছে।’
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক নৌকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় অভিযান পরিচালনায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। সম্প্রতি অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে এবং একাধিক নৌকা জব্দ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’





