আজ (সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোয়ালমারী গরুহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বপন ঘোষ বোয়ালমারী পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি ভ্যাট বকেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি দুই দফায় আট হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ জানান, ‘ভুয়া পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী প্রান্ত সাহা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে মামলা করা হবে বলে আলটিমেটাম দেয়া হয়। পরে তিনি পাঁচ হাজার টাকা দিতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
তবে সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সরকারি কাজে বোয়ালমারীতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী নিজেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যা আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে আমাকে অপদস্ত করা হয় এবং পুলিশ এসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো ঘুষ নিইনি।’
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ কখনো নিজেকে মুস্তাইন শাহ মামুন হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করতেন। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজস রয়েছে কি না—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনা দুটির পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।





