আজ (শুক্রবার, ২ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ নৌবহিনী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আসছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামক একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরবর্তীতে সমুদ্রে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করার উদ্দেশে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।
এফভি ক্রিস্টাল-১ তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করে। এ সময় সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটিকে উদ্ধার করে। বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় ভাসমান বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বোটটি থেকে উদ্ধারকৃত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জন মানব পাচারকারীচক্রের সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়। তাদের আটক করা হয় এবং অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশই মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিলো।
পরবর্তীতে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশে সমুদ্রপথে নেয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত ছিল। আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সকল ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।





