কান্তজিউ মন্দির: সংরক্ষণের অভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক টেরাকোটা

কান্তজিউ মন্দির
কান্তজিউ মন্দির | ছবি: এখন টিভি
0

উপমহাদেশের প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির। পোড়ামাটির টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা অসাধারণ কারুকাজ দেখতে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আসেন এখানে। সম্প্রতি মন্দিরটি ঘুরে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনশেন। তবে সময়ের সঙ্গে মন্দিরের টেরাকোটার অনেক অংশ খসে পড়ছে, কোথাও ধরেছে শ্যাওলা ও ফাঙ্গাস। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।

ইতিহাস আর স্থাপত্যের মেলবন্ধন— কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ মন্দির। পোড়ামাটির ফলকে নিখুঁত কারুকাজ আর ঐতিহাসিক নানা চিত্রকর্মে সমৃদ্ধ এই মন্দির দেখতে প্রতিবছর ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক। সম্প্রতি এটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

তবে কান্তজিউ মন্দিরের সৌন্দর্য এখন অনেকটাই বিবর্ণ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরের টেরাকোটার বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। শ্যাওলা আর ফাঙ্গাসে কালো হয়ে গেছে পোড়ামাটির ফলক। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই স্থাপত্যের নান্দনিকতা।

পর্যটকরা জানান, এই কান্তজিউ মন্দির খুব সুন্দর। আমাদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী, উত্তরবঙ্গের সর্বশ্রেষ্ঠ। জিনিসগুলো যাতে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়, যেহেতু এটা আমাদের দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। টাকে আমরা আরও সুন্দরভাবে পুনর্নির্মাণ করবো।

স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের মূল স্থাপনার টেরাকোটা সংরক্ষণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দর্শনার্থীরাও চান, দ্রুত মন্দিরটির সংরক্ষণ কাজ শুরু করা হোক।

স্থানীয়রা জানান, অনেক সংস্কারের কাজ বাকি রয়েছে। ডিসি, ইউএনও যদি লক্ষ্য করে আমাদের মন্দিরের ভিতরের এই সংস্কারগুলো করে দেন, তাহলে আরও খুব ভালো হয়।

মহারাজা প্রাণনাথ ১৭০৪ সালে কান্তজিউ মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ৪৮ বছর পর তাঁর পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ এর নির্মাণ শেষ করেন। পরবর্তীতে ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মন্দিরের নবরত্ন চূড়াগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা দাবি করেন, রিপেয়ারিংয়ের কাজটা যদি করে দেয়, মন্দিরের এই যে পুতুলগুলো যে আছে আরকি, এগুলো যদি রিপেয়ারিং করে দেয়, তবে আরও খুব ভালো হয় আরকি।

ঐতিহ্য আর স্থাপত্যের আকর্ষণে সারা বছরই মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে টেরাকোটার ক্ষয় বাড়তে থাকায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে।

পর্যটকরা জানান, জায়গাটা আরেকটু সংস্কার করা প্রয়োজন। আর যেহেতু এটা একটা অন্যতম আমাদের সাংস্কৃতিক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে, তো এই দেশেও আমার মনে হয় ওটাকে আরেকটু রিচ করা দরকার।

২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার একজন টেরাকোটা বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সরকারিভাবে মন্দিরে বড় ধরনের সংস্কারকাজ হয়েছিল। এরপর উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় নতুন করে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

রংপুর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, এটা আমার আলাদা একটা দৃষ্টিতে থাকবে। দেখতেই পাচ্ছি এখানে কিছু স্যালাইনিটির প্রবলেম রয়েছে। কিছু রাসায়নিক পরিচর্যা প্রয়োজন। তো এই কাজগুলো আমরা অচিরেই ধরবো, আমরা আশা করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা বিষয়টা অবহিত করবো।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বলছে, টেরাকোটা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে শিগগিরই। গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি যেন সময়ের ক্ষয়ে হারিয়ে না যায়—সেটিই প্রত্যাশা পর্যটক ও স্থানীয়দের।

ইএ