কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা: ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী, পাশ করেনি একজন শিক্ষার্থীও!

কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা
কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা | ছবি : সংগৃহীত
0

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারী মিলে ২১ জন। অথচ এবারের দাখিল পরীক্ষায় ২৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছরে ইতিহাসের এ বারই প্রথম দাখিল মাদ্রাসায় ফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। এদিকে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাটির এমন ফল বিপর্যয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এ বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাদের একজনও পাশ করতে পারেনি।

মাদ্রাসায় ১৬ জন শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে মোট জনবল ২১ জন। আর শিক্ষার্থী ২৮ জন। যার মধ্যে দাখিল পরীক্ষায় একজনও পাশ করতে না পারায় অভিভাবক ও স্থানীয়রা হতাশ। এম ঘটনায় শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং অবহেলারও অভিযোগ তোলেন অনেকে।

অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘সেখানে ২৮ জন পরীক্ষা দেয়ার পরে দেখলাম যে ২৮ জনের মধ্যে ২৮ জনই ফেল। সেখানে আবার শিক্ষক-কর্মকর্তা ২১ জন। ২১ জনও যদি একজন একজন করে ধরে পড়াইতো, তাহলে মনে হয় ২১টা মানুষ পাশ করতে পারতো।’

অপর আরেকজন বলেন, ‘এটা আসলে সমাজে যেমন প্রভাব ফেলবে, তাছাড়াও পরিবার, অভিভাবকসহ সবাই এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা এবং গাফিলতির কারণেই এমন ফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ‘২৮ জন শিক্ষার্থীকে যদি ২১ জন পাশ না করাইতে পারে, আসলে এর থেকে উত্তরণের যে উপায়, সেই উত্তরণের উপায় খুঁজতে হবে।’

তবে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, এমন ঘটনা এর আগে কখনই ঘটেনি। কী কারণে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে সেটা বুঝতে পারছেন না বলে জানান মাদ্রাসা সুপার। অন্যদিকে, এমন ফলাফলে তদন্ত টিম গঠনের কথা বলছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের এই কর্মকর্তা।

কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, ‘কমপক্ষে আমাদের ১৪-১৫ জন আমরা রেজাল্ট পাব, এরকম তো আশা ছিল। কিন্তু এরকম যে বিপর্যয় হবে, এটা আমার ধারণা নাই। সেই কারণেই আমি সব মার্কশিট তুললাম। তুললে পর আজকে আমরা ফের অনলাইনে পুনরায় খাতা চ্যালেঞ্জ করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিস অ্যাকাডেমি সুপারভাইজার রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়ে বসলাম, সুপারের সঙ্গে কথা বললাম। তারা বলল, এই বিষয়টি আসলে ঘটার কথা না। একজন পাশ করবে না, এরকম ঘটনা হওয়ার কথা না। তারপরে কেন হয়েছে, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

জেলায় এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৯টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে পাশ করেছে ৫ হাজার ৯০৪ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ জেলাগুলোর মধ্যে পাশের হারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।


এফএস