দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী কিম হং-চিওল সাংবাদিকদের জানান, প্রস্তাবিত এ আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে স্থল সামরিক সীমারেখার (এমডিএল) সুনির্দিষ্ট অবস্থান যৌথভাবে নিশ্চিত করা, সামরিক হটলাইন পুনরায় চালু করা এবং সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিক সীমান্ত গ্রাম পানমুনজমের মাধ্যমে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডসহ ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্রেও সিউল প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে উত্তর কোরিয়া এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন বেশ কিছুদিন ধরেই সিউলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা স্থগিত রেখেছেন। এর মধ্যেই গত বুধবার কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং ঘোষণা করেন, সীমান্তের কৌশলগত এলাকায় নতুন সামরিক ইউনিটগুলোকে সরাসরি গোলাবর্ষণের অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন ল্যান্ডমাইন, কাঁটাতারের বেড়া, ট্যাংকবিধ্বংসী প্রাচীর ও সামরিক অবকাঠামো জোরদার করছে পিয়ংইয়ং।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যবর্তী অসামরিক অঞ্চল বা ডিএমজেড-এর পশ্চিম অংশে সামরিক সীমারেখার কাছে এক বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিউলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণেই তাদের সেনারা আহত হয়েছেন। সিউল এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেও পিয়ংইয়ং তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে ফেলে রাখলে সীমান্তে ভবিষ্যতে যেকোনো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিপূর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মাইউং উত্তর কোরিয়াকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে কিম ইয়ো জং সিউলের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রচেষ্টাকে ‘প্রহসনের চূড়ান্ত রূপ’ বলে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।





