নয়াদিল্লির বিক্ষোভে ২০ মামলা; শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা না দেয়ার নির্দেশ আদালতের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভস্থলে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভস্থলে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা | ছবি: রয়টার্স
0

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ২০টি এফআইআর (মামলা) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এসব মামলায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কমলা মার্কেট থানায় শিক্ষার্থীদের মারধর ও নারী বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার অভিযোগে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কট্টর ডানপন্থি সংগঠন হিন্দু রক্ষা দলের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে শনিবার নয়াদিল্লিজুড়ে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) অনন্ত মিত্তালসহ ১৫ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হন। দিনভর অভিযানে রাজনৈতিক নেতাসহ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার হস্তক্ষেপ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্দেশ দেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা এবং আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। শীর্ষ আদালতের বাইরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার নোটিশ বোর্ডও অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতিকে ১৯৭৫ সালের মতো ‘প্রকাশ্য জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তারা অভিযোগ করেন, পুরো নয়াদিল্লিকে কার্যত সেনানিবাসে পরিণত করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি আটক দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের কাছে তার দাদির মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পুলিশ চরম অসংবেদনশীল আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এএম