চিঠির অপেক্ষা, অপেক্ষা ভালোবাসার, অপেক্ষা প্রিয় কোনো মুখের। অথবা এমন একটি শব্দের, যে শব্দে লুকিয়ে থাকে পুরো একটি হৃদয়।
চিঠি, দুটি হৃদয়ের মাঝখানে টানানো এক অদৃশ্য সেতু। যেখানে কালি শুকিয়ে যায়, কাগজ পুরোনো হয়, কিন্তু অনুভূতিগুলো থেকে যায় অমলিন। চিঠির পঙক্তিগুলোই যেন কবিতার পুষ্প সেই পুষ্পের বৃন্তেই লুকিয়ে থাকে হাসি, কান্না আর অভিমান।
কবি ও লেখক মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘রিলেটিভ যারা দেশের বাইরে থাকে, যারা আমাদের খুব কাছের মানুষ। যাদেরকে একসময় খুব চিঠি লিখতাম, এখন হয়তো তারা নেই। কিন্তু তাদেরকে মনে করে আমি এখনো চিঠি লিখি। সেই চিঠিগুলো হয়তো পাঠানো হয় না, সেই চিঠিগুলো মানে পড়ার হয়তো এখন কেউ নেই। কিন্তু আমার খুব ভালো লাগতো যদি আজকে সেই চিঠিগুলো আবার নতুন করে আমরা লিখতে পারতাম।’
মহাদেব সাহার মতো রবীন্দ্রনাথও জীবদ্দশায় সবচেয়ে বেশি চিঠি লিখেছেন তার আদরের মেয়ে রানীকে। আত্মীয়তার বন্ধন না থাকলেও রানীর সাথে তার আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে চিঠির পরম ছোঁয়ায়।
সহস্র বছর ধরে লেখা চিঠিগুলোর পাতার আঁচড়ে মলিন হলেও তার অব্যক্ত কথাগুলো রয়েছে হৃদয় কুঠুরে। হাজারো প্রেমিকের অপেক্ষা ছিলো কখন প্রেয়সীর চুলের গন্ধভরা চিঠিটি হাতে আসবে। আর কালির আবরণে লেখা শব্দের মাঝেই ছিলো সেই অপেক্ষা। যে অপেক্ষায় কাটতো জীবন।
কিন্তু, হঠাৎই কি যেন হলো, হারিয়ে গেল সব অপেক্ষা। হোয়াটসআপ, ম্যাসেন্জার টেক্সটের ভিড়ে হারিয়ে গেল সেই সোনালি অতীত। তবুও, দেশের কিছু কিছু জায়গায় এখনও রয়েছে সেই চিহ্ন। লাল রঙে মোড়ানো দুই ফুট লম্বা পোস্ট বক্সগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। কিন্তু, সেখানে কি আসলেই চিঠি আসে।
সারা দেশের ৯৮৪৮টি পোস্ট অফিসে চাকুরী করে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। বাজেটের বড় একটি অংশ এই খাতে ব্যবহৃত হয়।কিন্তু, বিশাল বরাদ্দের এই অর্থ আসলে কতটুকু কার্যকর হয় ডাকখাতে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ চিঠি, রেজিস্ট্রি চিঠি বা একটু যদি উনি দ্রুত পাঠাতে চান দেশের মধ্যে গ্যারান্টেড এক্সপ্রেস পোস্ট বা জিপি, বিদেশের বেলায় ইএমএস এক্সপ্রেস মেল সার্ভিস যেটি, এছাড়া পার্সেল বা অন্যান্য জিনিস যেমন আছে, এর পাশাপাশি আমরা কিছু এজেন্সি ফাংশন করি। যেমন সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র—এই কাজগুলো হয়।’
হয়তো, আগের মতো চিঠি আসে না। তবে, পোস্ট অফিসগুলোর ব্যস্ততা বেড়েছে অনেকগুণ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন এনেছে কার্যক্রমে।




