ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে; ম্যাক্রোঁ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

প্যারিসে সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধের সময় সড়কে স্লোগান দিচ্ছেন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা
প্যারিসে সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধের সময় সড়কে স্লোগান দিচ্ছেন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট বরাদ্দের দাবিতে চলা আন্দোলন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্লাসরুমের অবকাঠামোগত সংকট নিয়ে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন বিস্তৃত রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে, যাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। আশরাক আল-আওসাতের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যান প্রশাসনিক কঠোরতার চিত্র তুলে ধরলেও রাজনৈতিক সংকট কমাতে পারছে না। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুধু বৃহস্পতিবারই ৩৭৫টি বিদ্যালয়ে পাঠদান পুরোপুরি বা আংশিক বিঘ্নিত হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এক টেলিভিশন ভাষণে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্রান্সের তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারি না।’ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে নির্বাচনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমাতে পারেনি।

১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এমা খলিল স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন আরও জোরদার হবে এবং বিভিন্ন খাতের আন্দোলনগুলো এক বিন্দুতে এসে মিলবে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াইয়ের গতি কমবে না।’

এদিকে ফরাসি প্রশাসনের ওপর চাপ কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও। বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৬ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানেও প্রায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার্ড কুইন্টিন জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় না দিয়ে আদালতে তোলা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ দশা আর শিক্ষক সংকটের মতো নাগরিক সমস্যাগুলো এখন জাতীয় রাজনীতির মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ শিবিরের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

এএম