প্রকৃতির সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ নেত্রকোণায় থমকে আছে পর্যটন

প্রকৃতির সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ নেত্রকোণা
প্রকৃতির সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ নেত্রকোণা | ছবি: এখন টিভি
0

প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোণা। এখানকার সাদা মাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদী আর পাঁচগাঁও পাহাড়ের টানে প্রতি বছরই ভিড় জমান হাজারো পর্যটক। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজও পিছিয়ে রয়েছে সম্ভাবনাময় এই খাত। স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধা গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের আকর্ষণের পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, এই অঞ্চলের পর্যটনকে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই সংশ্লিষ্টরা এলাকাটি পরিদর্শন করবেন।

পাহাড়, নদী আর হাওড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোণা। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এ জেলায় প্রতি বছরই ভিড় করেন হাজারো পর্যটক।

নামে পর্যটন হলেও সুপরিকল্পিত রাস্তা, আবাসন কিংবা নিরাপত্তা—সবদিক থেকেই পিছিয়ে এ অঞ্চল। অথচ সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে জেলার অর্থনীতির বড় একটি জোগান হতে পারে পর্যটন। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটকরাও পাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা।

সুসং দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী আর সাদা মাটির পাহাড়ের সৌন্দর্য বেশি মুগ্ধ করে পর্যটকদের। কখনো পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা, আবার কখনো সোমেশ্বরীর জলে গা ভাসান পর্যটকরা।

দুর্গাপুরে রয়েছে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, শতবর্ষী ক্যাথলিক গির্জা, কমলারানী দিঘি আর কমরেড মণি সিংহের স্মৃতি জাদুঘরসহ বহু দর্শনীয় স্থান।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যদি সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন যারা আছে, তারা যদি এখানে একটা পানির ব্যবস্থা করে এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করে পাশাপাশি বিভিন্ন থাকার সুব্যবস্থা যদি করে, তাহলে আসলে আমাদের এই সাদা মাটিটা দিন দিন আরও উন্নতির দিকে পৌঁছে যাবে আর কি বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন:

পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অন্যান্য জায়গার তুলনায় এই জায়গার এই কি বলে প্রশাসনিক দিক থেকে যে সাহায্যগুলো থাকে, যেমন পর্যটন কেন্দ্রে দোকানটোকান বা সাজানো-গুছানো বা এই যে যেমন স্ট্যাচু-ম্যাচু এরকম থাকে, ওইরকম কিছুই পাই নাই।’

এছাড়াও কলমাকান্দার পাঁচগাঁও পাহাড়ের ঢেউ খেলানো সৌন্দর্য ও গ্রামীণ পরিবেশ তৈরি করেছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা। যদিও এই স্থানটিতে যাতায়াত ও নাগরিক সুবিধার অভাব প্রকট।

অবকাঠামোগত ঘাটতির পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গড়ে উঠেছে প্রচুর দোকানপাট। এতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। দর্শনীয় স্থানগুলো উন্মুক্ত রাখার দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যত্রতত্র দোকানপাট হচ্ছে। দ্বিতীয়ত এখানে কিছু বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যেগুলো আসলে কোনো ভালো ম্যানেজমেন্ট নাই এখানে।’

অন্য একজন বলেন, ‘যে একজন এই জায়গায় আসবে মানে তার যে জানের একটা নিরাপত্তা, এইটা নাই। যদি ট্যুরিস্ট পুলিশ দেয় এই জায়গায়, তাহলে অনেকটা ভালো হয়।’

জেলা প্রশাসক বলছেন, পর্যটনকে ঘিরে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ দোকানপাট বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার।

আরও পড়ুন:

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি যে কলমাকান্দা, পাঁচগাঁও এবং দুর্গাপুরে একটা পর্যটন একটা পরিকল্পনা আমাদের ডেপুটি স্পিকার মহোদয় নিয়েছেন এবং সামনে আমরা ভালো কিছু সংবাদ আমরা পাবো। আমাদের বিশ্বাস যদি আমরা আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম পর্যটন হাবে এ পরিণত হবে।’

ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আমি একটা ডিও দিয়েছি। তো আমরা আশা করছি উনারা আসতে চেয়েছিলেন, যেহেতু বৃষ্টিবাদল আপনারা জানেন পর্যটনের টাইমটা হচ্ছে এই উইন্টার সিজনে। সো আমি প্রত্যাশা করছি হয়তো অক্টোবরের দিকেই মন্ত্রী আসবেন এবং এর আগে একটা টিম আসবে পর্যটনের সম্ভাব্যতার যাচাই করে উনারা কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।’

এখানকার সাদা মাটির পাহাড় জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পুরো অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপের সঠিক প্রচার, সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে নেত্রকোণা।

এসএস