ইউনিটটি গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম ইউনিটটি গ্রিডে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। রোববার সকাল ৯টায় আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিলো।
এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ফিড ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে ইউনিট-২ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে প্রায় ৭৫০ থেকে ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল।
এর আগে, রোববার সকালে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি জাতীয় গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিট-২ চালু করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন:
১০ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার আগে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। ইউনিট-২-এর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বয়লার ফিড পাম্পে ত্রুটি দেখা দেয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার ফিড পাম্প উচ্চচাপে বয়লারে পানি সরবরাহ করে। এতে ত্রুটি দেখা দিলে বয়লারের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে কয়েক দফা সরবরাহ বিঘ্নের পর সর্বশেষ এ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর আগে, ভারতের রেল নেটওয়ার্কে তীব্র যানজটের কারণে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায়ও উৎপাদন কমিয়েছিল আদানি।
তখন আদানি পাওয়ার জানিয়েছিল, কয়লা পরিবহন ও লোডিংয়ে বিধিনিষেধের কারণে কয়লার প্রাপ্যতা কমে যায়। এ কারণে উৎপাদন সমন্বয় করে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটির সম্মিলিত প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।




