নাইজারে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান; ফ্রান্সকে দায়ী করলো সরকার

রাজধানী নিয়ামির রাস্তায় একটি সাঁজোয়া যান
রাজধানী নিয়ামির রাস্তায় একটি সাঁজোয়া যান | ছবি: সংগৃহীত
0

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সরাসরি ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ তুলেছে দেশটির সামরিক সরকার। তবে প্যারিস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে একে ‘উদ্ভট কল্পনা’ বলে অভিহিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২৯ আগস্ট গভীর রাতে নিয়ামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন প্রধান সামরিক ঘাঁটি ১০১-এ হামলা চালায় বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা। পরবর্তীতে গোলাগুলি প্রেসিডেন্ট প্যালেস ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার আধা-সামরিক বাহিনী আফ্রিকা কর্পসের সহযোগিতায় কয়েক ঘণ্টার অভিযানে এ অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে নাইজারের সেনাবাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হন এবং বহু সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাইজার সরকারের মুখপাত্র সুমানা বুবাকার টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন নেটওয়ার্কের ষড়যন্ত্রে এ অভ্যুত্থানচেষ্টা চালানো হয়। নাইজারের মন্ত্রী পরিষদ জানিয়েছে, এ ঘটনার পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার অধিকার রাখে তারা। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকওয়াসসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধেও এতে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে নিয়ামে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ফরাসি রেডিও আরএফআইকে বলেন, ফ্রান্সের এ ধরনের কোনো ইচ্ছা বা সক্ষমতা ছিল না। নাইজার নিজেদের যেকোনো অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার জন্য অযথাই ফ্রান্সকে দায়ী করে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন আবদুর রহমান চিয়ানি। এর পর থেকেই দেশটির সঙ্গে সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। নাইজার থেকে প্রায় দেড় হাজার ফরাসি সেনা সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার এবং বেশ কয়েকটি ফরাসি গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় সামরিক সরকার।

এএম