ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের

তেহরানের কেন্দ্রীয় এনগেলাব স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ড
তেহরানের কেন্দ্রীয় এনগেলাব স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজ
0

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা অবকাঠামো ও নজরদারি প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে শত কোটি ডলারের নজিরবিহীন ক্ষতি সাধন করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে এনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হামলায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ব্যবহৃত ভবন, রাডার ব্যবস্থা ও তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা খাতের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও নতুন সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ জরুরি তহবিল অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস।

মার্কিন ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাতকালে রিয়াদের একটি সিআইএ স্টেশন, পূর্ব ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত অতি সংবেদনশীল রাডার ও নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করে এসব হামলা চালানো হয়। সংঘাতের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার নেটওয়ার্কের ওপর পদ্ধতিগত আক্রমণ চালায় ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে জর্ডানের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ব্যবস্থা, কাতারের এএন/এফপিএস-১২ ফেজড-অ্যারে রাডারসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের বেশ কিছু স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতেও বড় টান পড়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) গত জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। একই সময়ে থাড ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত কমেছে অন্তত ৩৮ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত শুরু করে তেহরান। গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌপথ ব্যবস্থাপনা ও চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দ্বিমত থাকায় তা বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এএম