কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় সোলোমিয়ানস্কি এলাকার একটি শিশু হাসপাতাল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। গতকাল (বুধবার, ১৯ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রথম দফা এবং আজ (বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট) ভোরে দ্বিতীয় দফায় এই হামলা চালানো হয়। বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের ব্রোভারি জেলায় আরেকটি হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ১৬৮টি ড্রোন ব্যবহার করেছে মস্কো। এর মধ্যে কিনঝাল ও জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ইস্কান্দার ও উত্তর কোরিয়ার তৈরি কেএন-২৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শাহেদ ড্রোন ছিল।
হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে না।’
এ হামলার জেরে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী। রোমানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশের পর তা দেশটির তুলসিয়া কাউন্টির জনমানবহীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে পাল্টা জবাবে রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে ২৫০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। তেলের ডিপো ও শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রির সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ঘাটতি মেটাতে মস্কো এখন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানি শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগে নিজের জ্যেষ্ঠ সহকারী ইরিনা মুদ্রাকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘নাবু’ জানিয়েছে, অর্থপাচারের এক ঘটনায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে।





