প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দুই তহবিলে জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান হবে। সামগ্রিকভাবে এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এ অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই মরহুমা খালেদা জিয়াকে। খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। কারণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং আবারও তারই উদ্যোগে ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) এ তহবিলে সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এ তহবিলের ভিত্তিকে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেন।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চালু করা শিক্ষা উপবৃত্তির কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ শিক্ষা বিস্তারে ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মডেল হিসেবে অনুসরণ করছে। আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করি।’
আরও পড়ুন:
কল্যাণ তহবিল বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে যে টাকা জমা দেন, সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি অ্যামাউন্ট জমা করেন।’
তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো চাকরি জীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক যাতে একটি ভালো অ্যামাউন্ট হাতে পান। উদ্দেশ্য মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এ টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষকদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
কল্যাণ তহবিলের টাকা তুলতে আগে ঘুষ দিতে হতো বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে তাদের ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও পালন করতে হয়েছে বা বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে। এটি বাস্তবতা।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা শিক্ষকদের কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।’
ঘুষ দিয়ে টাকা শিক্ষকদের টাকা তোলা জাতির জন্য দীনতা-হীনতা বলে জানান তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীদের বড় করে তোলেন, তাদেরই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ পায়।’
তিনি বলেন, ‘অবসরকালীন সুবিধার টাকা আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, এ পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি কিন্তু অতটাও সহজ ছিল না। কারণ পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক, বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সে লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।’
এর ফলে শিক্ষকতা শেষে শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ফলে যে শিক্ষকরা সারা জীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালী সময় পার করে দিয়েছেন, জীবনের এ প্রান্তে এসে তাদের চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এ তহবিলগুলোতে কোনো টাকাই পাচ্ছিলেন না।’
‘বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দেখা যায় এ ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান নেই। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারের ও বেশি শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।’
ভবিষ্যতে এ দু’টি তহবিলের টাকা উঠাতে কোনো শিক্ষককে ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





