তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরাট প্রভাব রয়েছে। আবার এটিও প্রমাণিত হয় যে, ধর্ম নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখে, কাওয়ালীর মতো সুফি ধারার সংস্কৃতি চর্চা তাদের মানসিকতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’
উপমহাদেশে ইসলামের মতো শান্তির ধর্ম প্রচারে কাওয়ালী ও সুফি সংস্কৃতি একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সর্বশক্তিমান স্রষ্টা কেবল কঠোর বিচারক নন, তিনি তার সৃষ্টির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন—এ কাওয়ালীর মূল সুরের ভেতরে সেই পরম সত্যই লুকিয়ে থাকে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগের প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাউল সংগীত সন্ধ্যারও আয়োজন করতে যাচ্ছে। কাওয়ালী ও বাউল সংগীতের এ সম্মিলনের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান নেতৃত্ব আমাদের দেশের আসল জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যতদিন আছি, প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে আমরা এক হয়ে কাজ করে যাব।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এবং দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।—বাসস





