৬ বছর ধরে বন্ধ পঞ্চগড় সুগার মিল; ঋণের বোঝা ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি

পঞ্চগড়ের সুগার মিল | ছবি: এখন টিভি
0

প্রায় ৬ বছর ধরে আখ মাড়াই বন্ধ রয়েছে পঞ্চগড় সুগার মিলে। মিল এলাকায় বর্তমানে ভুতুড়ে পরিবেশ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক শ্রমিক। সরকার মিলটি চালুর আশ্বাস দিলেও নেই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। এদিকে মিলটি বন্ধ থাকলেও বাড়ছে ঋণের বোঝা। যার বর্তমান ঋণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতিবছরই বাড়ছে ব্যাংক ঋণের সুদ।

জেলার অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড় সুগার মিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। জেলার একমাত্র সরকারি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতি। চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন শ্রমিক কর্মচারীরা। গণঅভ্যুত্থানের পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মিলটি বন্ধের আদেশ প্রত্যাহার করে মিলটি চালুর আশ্বাস দেয়া হয়। যদি দেড় বছর পেরিয়ে যাবার পরও নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে ততই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কলকারখানাগুলো। এগুলো যদি পুনরায় চালু করে, মার্কেটটাও ভালো হবে। আমাদেরও বেচাবিক্রি বাড়বে।’

এ সুগার মিলে কাজ করতেন ১৪০০ মানুষ। মিলটি বন্ধ হওয়ায় কাজ হারিয়ে মানবেতর দিন পার করছেন অনেকে। এদের কেউ বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। মিল এলাকাতেও এখন শুনশান নীরবতা। ঝোপ ঝাড়ে ভরে গেছে মিলের চারপাশ। নষ্ট হচ্ছে মিলের যন্ত্রপাতি। যদিও চালু আছে প্রশাসনিক কার্যালয়। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন।

অন্যদিকে মিলটি বন্ধ থাকলেও বাড়ছে ঋণের বোঝা। বর্তমান ঋণ রয়েছে সব মিলিয়ে ৭৬০ কোটি টাকা। প্রতি বছর সুদ বাড়ছে ৩০ কোটি টাকারও বেশি। ঋণের বোঝা বাড়লেও কোনো তৎপরতা নেই মিল কর্মকর্তাদের। মিলটি আবার চালুর ক্ষেত্রে ঋণের বোঝাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুনরায় চিনিকলটি চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলেন তারা। তবে চিনিকলের সম্পদ ব্যবহার করে শিল্পের বহুমুখীকরণ করার পরামর্শ ব্যবসায়ী নেতারা।

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহসভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, ‘চিনিকলের ঋণটাকে বিবেচনায় রেখে সরকার এখানে শিল্পের বহুমুখীকরণ যদি করতে পারে, তাহলে স্থানীয় সাধারণের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হবে।’

এ বিষয়ে মিলটির কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরা সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে সম্প্রতি পরিদর্শন করে মিলটি চালু করতে তিন শর্ত জুড়ে দেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্রথম সংস্কার দরকার। এ সমস্ত জিনিস বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, কত দ্রুত নেয়া যায় সেটা সেখানে স্থির করব। যে উপায়ে প্রতিষ্ঠানগুলি লাভজনকভাবে চালু করা যায়, দেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়, তার সম্ভাব্য সবকটি বিকল্প আমরা খতিয়ে দেখব।’

পঞ্চগড় সুগার মিল আবারও চালু হবে, কর্ম ফিরে পাবে কর্মহারা শ্রমিকরা এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তবে তার আগে প্রয়োজন ঋণের বোঝা কমানো|

জেআর