রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিনেটে শনিবার সকালে ৫০-৪৯ ভোটে অনুমোদিত হয় ব্লাঞ্চের নিয়োগ। এই ভোটাভুটির আগে দীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই চলে। বিচার বিভাগের মতো একটি ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীন সংস্থার শীর্ষ পদে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরেই হোয়াইট হাউস থেকে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পরিচিত।
সরকারে যোগ দেয়ার আগে ব্লাঞ্চ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা একাধিক ফৌজদারি মামলায় তার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য এই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করতে চাইছেন ট্রাম্প। রাষ্ট্রপতি গত এপ্রিলে পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার পর থেকে ব্লাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই অনুমোদনের ফলে তিনি এখন আরও আক্রমণাত্মকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ, ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-উইপনাইজেশন’ তহবিল গঠন এবং রাষ্ট্রপতি ও তার ছেলেদের জন্য কর সংক্রান্ত দায়মুক্তি চুক্তিতে ব্লাঞ্চের ভূমিকা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান সিনেটররাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ব্লাঞ্চ লিখিতভাবে কর দায়মুক্তির পরিধি কমিয়ে আনতে এবং ‘উইপনাইজেশন’ তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ বন্ধ করতে সম্মত হন। সমালোচকরা এই তহবিলকে ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য এক ধরনের ‘গোপন তহবিল’ বলে অভিহিত করেছেন; যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলাকারীরাও রয়েছেন।
তবে ব্লাঞ্চের এই লিখিত প্রতিশ্রুতি আইনগতভাবে কতটা বাধ্যতামূলক এবং ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো নামে এসব কর্মসূচি পুনরায় চালু করার জন্য তাকে চাপ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি শুক্রবার ঘোষণা দেন, ট্রাম্প যাদের নাম প্রস্তাব করতে পারতেন, তাদের মধ্যে ব্লাঞ্চই সেরা—এই বিবেচনায় তিনি ভোট দেবেন। তার এই সিদ্ধান্তই ভোটাভুটিতে নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। ব্লাঞ্চ দাবি করেছেন, তার নেতৃত্বে অপরাধ রেকর্ড পরিমাণে কমেছে এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে ট্রাম্প ও তার রক্ষণশীল মিত্রদের বিরুদ্ধে যেসব ‘ভুল’ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, সেগুলো তিনি শুধরে দিয়েছেন।





