জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড; ১ বছরের মধ্যে সব মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে আনসার বাহিনী ও শেখ হাসিনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে আনসার বাহিনী ও শেখ হাসিনা | ছবি : সংগৃহীত
0

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৬টি মামলার বিচার কাজ শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। ১১ জন যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে ৩৫ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচার শেষ করার কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। আর সিনিয়র আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল মনে করেন, জুলাইয়ের মামলায় অতিরিক্ত আসামি করায় পুলিশ তদন্ত শেষ করতে পারছে না।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলের। সরকার উৎখাতের আন্দোলনে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহতের কথা বলা হয়েছে। আর সরকারের করা গেজেটে নিহতের কথা বলা হয়েছে আটশোর কিছু বেশি।

জুলাইয়ে সংঘটিত মানতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। শুরু হয় বিচার কাজ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে প্রথম মামলার আসামি তিনজন। গেলো বছর ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়।

এপর্যন্ত ৬ টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল । এতে ১৬জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন ও ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিচারাধীন রয়েছে ২০টি মামলা । নথিভুক্ত করা হয়েছে জুলাইয়ের ৫০৯টি। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ের মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রুটি-বিচ্যুতিও থাকতে পারে কখনো কখনো। কিন্তু এটা অবশ্যই আপনাদেরকে আমরা খুব গ্যারান্টি দিয়েই বলতে পারি যে, আমরা এই পিক অ্যান্ড চুজ—এই শব্দটার সঙ্গে আমাদের বোধহয় একটু দ্বিমত আছে। অ্যাজ এ হোল আমরা সবগুলা আপিলেই আমরা শুনানির একটা উদ্যোগ নিচ্ছি। কারণ আপনি জানেন যে অনেকগুলো আসামির মানে অল্প সাজা হয়েছে। যে আসামিগুলোর সাজা অল্প ছিলো, যেগুলো আমরা এনহ্যান্সমেন্টের জন্য আপিল করেছিলাম, সে আপিলগুলা আমাদের দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে ১ হাজার ৮৬৬টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা। একেকটি মামলায় হাজারের বেশিও আসামি রয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষ করে শেখ হাসিনাসহ অনেককে অব্যাহতি দিয়েছে পুলিশ।

এক মামলায় এতো আসামি করার বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, বেশি আসামি করায় তদন্ত শেষ হচ্ছে না। অনেককে হয়রানিও করা হচ্ছে। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘দ্রুত তদন্তগুলো শেষ করা, সেই জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়া পুলিশকে—লজিস্টিক হোক, তাদের তদন্ত কর্মকর্তা হোক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে যে এর মধ্যে কোন মামলাগুলো মানবতাবিরোধী মামলা হিসেবে চিহ্নিত হবে। বাকিগুলো এখানে বিচার করে ফেলা এবং সেই বিচার করার সময় যারা আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে, সে সংখ্যাটা কিন্তু বিপুল। সুতরাং তাদের অধিকার আছে ন্যায়বিচার পাওয়ার। তাদের এ ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। নানা কারণে মামলার মধ্যে নাম চলে এসেছে, তারা কেউ যেন এ ঘটনার শিকার হয়ে না যান। রিয়েল পার্পিট্রেটরসদের যাতে বিচারটা একদম যথাযথভাবে হয়, সেটা নিশ্চিত করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

গত ১৪ জুলাই সংসদে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুলাইয়ের সারাদেশে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। যার মধ্যে ৪০টি হত্যা মামলা। আর ঢাকা মহানগরে মামলা রয়েছে ৭৯০টি।


এফএস