‘আদালতের রায়ের পরিণতি আগেই আঁচ করা উচিত ছিল স্পেনের’—মরক্কো

রেড ক্রসের কাছ থেকে খাবার নিতে অপেক্ষায় অভিবাসীরা
রেড ক্রসের কাছ থেকে খাবার নিতে অপেক্ষায় অভিবাসীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

স্পেনের একটি আদালতের রায় অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর মূল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর জেরেই গত সপ্তাহে উত্তর মরক্কোর সিউটা ছিটমহলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন মরক্কোর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার মতে, এই রায়ের সম্ভাব্য পরিণতি স্পেনের কর্তৃপক্ষের আগেই আঁচ করা উচিত ছিল। স্ট্রেইট টাইমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্পেনের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহের ঘটনার পর থেকে সিউটা থেকে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে মরক্কোর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ছিটমহলটিতে প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনায় স্পেন সীমান্তে ৭২ জন এবং মরক্কো সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিউটার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস অভিযোগ করেছেন, মরক্কো সরকার এই ঢলে ‘উৎসাহ ও সম্মতি’ দিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসনকে ব্যবহার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা মেনে নেয়া হবে না।

সংকট শুরুর পর প্রথম ব্রিফিংয়ে মরক্কোর ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৮ জুলাই স্পেনের আদালতের রায়টি সমুদ্রপথে স্প্যানিশ ছিটমহলে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে বার্তা গেছে যে, সীমান্ত পেরোলেই তারা সুরক্ষা পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকাতে বলছে, অন্যদিকে তারা সীমান্ত পেরোনোর পর তাদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের ঢলের আগে মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তা কড়াকড়ি শিথিল করেনি। উত্তর উপকূলে প্রায় ২৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রেখে মরক্কো অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মরক্কো ৭৯ হাজার এবং গত বছর ৭৪ হাজার অবৈধ অভিবাসন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে মরক্কো ও স্পেনের সহযোগিতাকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ আখ্যা দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আদালতের এই রায়ই দুই দেশের বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সমন্বিত কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করেছে। এখন প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সমাধান খুঁজে বের করা স্পেনের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো কখনোই কেবল নিরাপত্তানির্ভর অভিবাসন পদ্ধতির সহযোগী হবে না।’

এএম