প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা কী কী বিশেষ ছাড় ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন, সরকারি লক্ষ্যমাত্রা এবং কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া (probashi card benefits in bangladesh, probashi card launch date, remittance incentive increase rate, dual currency probashi card bd) নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
আরও পড়ুন:
প্রবাসী কার্ডে কী কী সুযোগ-সুবিধা মিলবে? (What Facilities Will Be Available on the Probashi Card?)
প্রবাসীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে এবং দেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই কার্ডের অধীনে নানা ধরনের আকর্ষণীয় সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে:
- ডুয়েল কারেন্সি ও অনলাইন শপিং (Dual Currency & Online Shopping): কার্ডটি দেশে ও বিদেশে সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য। ফলে প্রবাসীরা খুব সহজেই দেশে ও আন্তর্জাতিক যেকোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটা (Online Shopping) ও ট্রানজেকশন করতে পারবেন।
- এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ট্রাভেল ডিসকাউন্ট (Airport Lounge Access & Travel Discounts): বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগের পাশাপাশি বিমানের টিকিট কাটা এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যছাড় মিলবে।
- আবাসন ও প্রবাসী সিটিতে অগ্রাধিকার (Priority in Housing & Probashi City): সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রবাসী সিটি বা বিভিন্ন ফ্ল্যাট-আবাসন প্রকল্পে প্রবাসীদের জন্য থাকবে বিশেষ কোটা ও অগ্রাধিকার সুবিধা।
- বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা (BMET Insurance & Rehabilitation Facilities): বিএমইটির (BMET) আওতায় প্রবাসীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, হঠাৎ দুর্ঘটনাজনিত সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনের বিশেষ সুবিধা যুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা (Extra Government Remittance Incentive)
বর্তমানে ব্যাংকিং ও বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) সরকারি প্রণোদনা (Remittance Incentive) দেওয়া হয়। তবে প্রবাসী কার্ডধারীদের উৎসাহিত করতে এই প্রণোদনার হার বাড়িয়ে ৩% (তিন শতাংশ) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ প্রসঙ্গে জানান, ‘প্রাথমিকভাবে এ বছরের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে প্রবাসী কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে কয়েকটি দেশে অবস্থানরত প্রায় ৫,০০০ প্রবাসীকে পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) এই কার্ড প্রদান করা হবে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আমাদের মূল লক্ষ্য।’
প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও হয়রানিমুক্ত সেবার দাবি (Expatriates Expectation and Hassle-Free Service)
সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরা। মালয়েশিয়া-প্রবাসী পাভেল সারওয়ারের মতে, ‘প্রবাসী কার্ডের ঘোষিত সুযোগ-সুবিধাগুলো যদি বাস্তবে সঠিকভাবে প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে হুন্ডি বন্ধ হয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তবে অতীতে বিএমইটি কার্ড বা অন্যান্য সেবা নিতে প্রবাসীদের যেসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, প্রবাসী কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে যেন তেমন কোনো ভোগান্তি না থাকে সেটাই আমাদের মূল দাবি।’
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলক পাইলট প্রজেক্টের কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, হাই কমিশন ও মিশনগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল বৈধ প্রবাসীর দোরগোড়ায় এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
একনজরে প্রবাসী কার্ড: মূল তথ্য ও সুবিধাসমূহ
বিষয় / ক্ষেত্র
বিস্তারিত তথ্য ও সুবিধা
কার্ডের নাম
প্রবাসী কার্ড (Probashi Debit / Smart Card)
উদ্বোধনের সময়সূচি
আগস্টের মাঝামাঝি সময় (পাইলট প্রজেক্ট শুরু)
রেমিট্যান্স প্রণোদনা
কার্ডধারীদের জন্য ৩% (সাধারণ প্রবাসীদের জন্য বর্তমানে ২.৫%)
বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা
প্রথম ধাপে ৫০,০০০ এবং বছরের মধ্যে ২,০০,০০০ কার্ড
অর্থসংস্থান ও ইস্যুকারী ব্যাংক
প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংক, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক
কারেন্সি ও পেমেন্ট ব্যবস্থা
ডুয়েল কারেন্সি (দেশে ও বিদেশে কেনাকাটা ও ই-কমার্স সুবিধা)
ভ্রমণ ও বিমানবন্দর সুবিধা
ফ্রি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ এক্সেস, বিমান টিকিট ও হোটেল ভাড়ায় ছাড়, মিট অ্যান্ড গ্রিট
আবাসন ও বিনিয়োগ সুবিধা
‘প্রবাসী সিটি’ ও সরকারি আবাসন প্রকল্পে বিশেষ কোটা ও অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুবিধা
BMET বীমা কভারেজ, হাসপাতালে বিশেষ সার্ভিস বুথ ও দেশে পুনর্বাসন সুবিধা
আরও পড়ুন:



