প্রায় চারশো বছরের এই মেগাসিটির গলিপথই যেন এই শহরের প্রধান রূপ। গলি পথ ধরে হেটে চলা, রিকশার টুংটাং শব্দ আর মুঘল-ইংলিশদের গড়া আভিজাত্য, বিরানি আর বাকরখানির স্বাদ গন্ধই রাজধানী, ঢাকা।
ফরাসিদের ফরাশগঞ্জ থেকে আখ খেতের গেন্ডারিয়া, ইংলিশদের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত ওয়ারি আর মুঘলদের প্রশ্বস্ত চক আজকের চকবাজার। ঢাকার নবাবদের থেকে যেমন এসেছে নবাবপুর, তেমনি মুসলিম ব্যবসায়ীদের আধিপত্য নাম দিয়েছে ইসলামপুরকে। দীর্ঘ সময় জুড়ে ঢাকা নিয়ে গবেষণা করা হাশেম সূফী যেন সেই ইতিহাসেরই ঝাঁপি খুলে ধরলেন।
গবেষক হাশেম সূফী বলেন, এই মসজিদ থেকে নিয়ে শুরু করে, ঐ মাজারটা নিয়ে শুরু করে আর কার্জন হলের চিশতিয়া মহল্লা। ১৯০৭ সালে যখন আধুনিকীকরণ হয়, তখন এখানে ২৫০ থেকে ৩৫০ এই অঞ্চলে পাকা বিল্ডিং ছিল—দোতলা। এবং এই যে আজকের এই কার্জন হলের যে রাস্তাটা, এটা 'গভর্নর হাউস রোড'। তখন এই কার্জন হলের সামনের রাস্তাটা পুরো কবর ছিল। বিভিন্ন রয়াল ব্যক্তিদের কবর ছিল।
ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত ঢাকা গেট। পুরাণ ঢাকাই ছিল আজকের রাজধানীর মূল ঢাকা। হাশেম সূফী জানালেন, এই গেটই রক্ষা করতো ঢাকাকে। শত্রুদের মোকাবিলায় যার জন্য কামানও ফিট করা হয়েছিল।
হাশেম সূফী বলেন, ব্রিটিশ আমলেও তারা সীমানা এটাকেই ধরে নিয়েছিল। যার জন্য এখানে যখন ঐ যেটা মীর জুমলা এখানে মীর জুমলা গেট বলা হয়। একচুয়ালি এখানে গেটটা যেটা গেট বলা হয়, এটাকে মীর জুমলা গেট। ওয়াল্টার্স এই ডিজাইনটা করেছিল। জাস্ট এই ডিজাইনটা... কিন্তু তখন হলুদ রঙের, হলুদ রং ছিল। এই রংটা ছিল, এই রঙের সাথে ইতিহাসের কোনো সম্পর্ক নেই।"
ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে যেমন বহু বিখ্যাত পরিবার জড়িত তেমনি এর সমৃদ্ধির পেছনে আছে নিজস্ব তৈজসপত্রের ব্যবহার। এই শহরে তার সংরক্ষণই বা কতটা? পূরণ ঢাকারই ফরাশগঞ্জে দেখা মেলে এমনই এক ঢাকা সেন্টার। যেখানে গেলে মনে হবে জীবন্ত এক ঢাকা যেনো চোখেরই সামনে।
কিভাবে এই শহরে হলো ইটের বিবর্তন, টিভি রেডিও কিংবা টেলিফোনের আধিপত্যের রূপ থেকে শুরু করে এখানে মিলবে ঢাকার চারশো বছরের ইতিহাসের বই।
ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক আজিম বখশ বলেন, যখন আপনার এই লোহার পুলটা ভেঙে ফেললো, আসলে মাটির নিচ থেকে দুইটা কামান বের হলো। প্রায় ৬-৭ ফুট, ছোট ছোট দুইটা কামান। তো এই কামানগুলো আমরাই ইনিশিয়েটিভ নিয়ে সাংবাদিকদের ডাকলাম, তারপরে উনাদের সামনে সূত্রাপুর থানাকে বুঝিয়ে দিলাম। তারপরে এগুলো কোথায় গেল আজ পর্যন্ত আমরা জানি না। সেই জন্য আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা কিছু কিছু করছি। আর এখানে দেখেন অনেক ছবি আছে, তো এই ছবিগুলো ঢাকার যারা বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাদের একক ছবি আছে, আবার গ্রুপ ছবিও কিন্তু আছে।
কালের বিবর্তনে ঢাকা আজ আয়তনে আরও বড়, নানা দিক থেকে সমৃদ্ধও বটে। কিন্তু এই ঢাকা নিয়েই নগরবাসীর আক্ষেপ। ঢাকার কেমন রূপে দেখতে চান তারা?
নগরবাসী জানান, সরকারি যত সেবা আছে, যাতে সারা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে তারা পেয়ে যায়। তাহলে দেখা যাবে ঢাকার লোকসংখ্যা কমে গেছে এবং ঢাকায় একটু সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অনেক প্রাচীন স্থাপত্য যেটা আমাদের সংস্কৃতি বহন করে, এগুলোর প্রতি আমাদের সবারই দায়িত্ববোধ থেকে চিন্তা করা উচিত।
নাগরিকদের এর ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে যেমন আছে অক্ষেপ তেমনি এই ঢাকাকে নিয়ে তাদের মাঝে চিন্তার ভাজও যেন কম নয়।





 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)