বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ফিফা। নতুন পরিকল্পনায়, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বা এফএফই নামে নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার সকল টুর্নামেন্ট, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিংসহ সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করতে চায় ফিফা।
ফিফার দাবি, এই অর্থ দিয়ে বিশ্বব্যাপী ফুটবল উন্নয়ন তহবিলের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও অধিকে উন্নীত করা যাবে। ২১১টি সদস্য দেশের ভোটাভুটিতে অনুমোদন মিললে প্রতিটি ফুটবল সংস্থা এককালীন সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া প্রতি ৪ বছর সহায়তার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়বে।
এফএফইতে সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে এসেছে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ এটার্নালের নাম। যার প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই। এছাড়া আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে জেপি মরগান। অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো।
ফিফার ভাবনায় বিরোধিতা জানিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আশঙ্কা, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিশ্চিতে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করা হতে পারে। এমনকি চার বছরের পরিবর্তে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের চাপও তৈরি হতে পারে। এতে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং খেলোয়াড়দের ওপরও চাপ বাড়বে।
অন্যদিকে ফিফা বলছে, নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন হলেও ফুটবলের পরিচালনা, প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচি এবং সব ধরনের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে ইনফান্তিনো নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হবেন, এমন খবরও অস্বীকার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ বিতর্কের পর বিশ্ব ফুটবলের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সংকট। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপে এরই মধ্যে আইনি পদক্ষেপ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন ফিফার সদস্য দেশগুলোর ভোটই ঠিক করবে- ফুটবলের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ এগোবে কোন পথে।





