ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ফের বিভ্রাট, বার্তা পাঠাতে ভোগান্তি; নেপথ্যে ডিএনএস ত্রুটির সন্দেহ

ফেসবুক ডাউনের প্রতীকী ছবি
ফেসবুক ডাউনের প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে ফের বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এটি মেটার সেবাগুলোয় দ্বিতীয় বড় ধরনের বিভ্রাট। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) দুপুরের পর থেকে মেটার প্রধান এই প্ল্যাটফর্মগুলোয় এক ব্যাপক কারিগরি বিভ্রাট শুরু হলে কোটি কোটি ব্যবহারকারী এসব সেবা ব্যবহার করতে পারেননি।

ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচমান সময় বেলা ১টার দিকে সমস্যাটি শুরু হয়। এরপর যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় আকারে অভিযোগ আসতে থাকে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দুপুর ১টার ঠিক আগে অভিযোগের সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যায়। বহু ব্যবহারকারী মেটার মালিকানাধীন সব সাইটেই সমস্যার কথা জানান।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সমস্যা শুরু হয়। এ সময় ব্যবহারকারীরা বার্তা পাঠাতে, ফেসবুকের ফিড রিফ্রেশ করতে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোয় কোনো কনটেন্ট লোড করতে পারছিলেন না। ব্যবহারকারীদের অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ লগআউট হয়ে যাওয়া এবং ‘অ্যাকাউন্ট টেম্পোরারিলি আনঅ্যাভেইলেবল’ বার্তা পাওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#ইনস্টাগ্রামডাউন’ ও ‘#ফেসবুকডাউন’ হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীরা এর মাধ্যমে যাচাই করার চেষ্টা করেন, সমস্যাটি বৈশ্বিক নাকি শুধু নিজেদের ডিভাইসে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেটা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হলেও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এর নেপথ্যে ‘ডিএনএস’ (ডোমেইন নেম সিস্টেম) ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইন্টারনেটের ‘ফোনবুক’ হিসেবে পরিচিত ডিএনএস যখন ডোমেইন নেমকে আইপি ঠিকানায় রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তখন এই সমস্যা দেখা দেয়। এতে ব্যবহারকারীরা মেটার সার্ভারে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন না। এই বিভ্রাটের অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের সময় অভ্যন্তরীণ সার্ভার কনফিগারেশনে সমস্যা, সব প্ল্যাটফর্মের ব্যাকএন্ড অবকাঠামোয় একযোগে ত্রুটি, বর্ডার গেটওয়ে প্রটোকল (বিজিপি) রাউটিংয়ে সমস্যা অথবা সাইবার হামলা।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিভ্রাটটি ২০২১ সালের অক্টোবরের সেই বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। সেবার প্রায় ছয় ঘণ্টা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ ছিল। এতে মেটার প্রায় ১০ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার (১৯ জুলাই) মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। ওই বিভ্রাটে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ডেস্কটপ সংস্করণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ফেসবুকের ২৩ হাজারের বেশি এবং ইনস্টাগ্রামের অন্তত ১৮ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছিল সেদিন।

ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ কোটির বেশি। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রচারণায় মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো এতটাই জড়িয়ে গেছে যে সংক্ষিপ্ত বিভ্রাটও ব্যাপক ক্ষোভ ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত কয়েক বছরে মেটার সেবায় বেশ কয়েকবার এ ধরনের বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এর কারণ হিসেবে সার্ভার কনফিগারেশনের ত্রুটি থেকে শুরু করে আপডেটজনিত সমস্যাকে দায়ী করা হয়েছে।

—জিএনওয়্যার, জিও নিউজ, আনাদোলুর প্রতিবেদন আলোকে

এএম