গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহাম উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনে লেবার পার্টির পক্ষে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এই আসনটি তিনি ব্যবহার করবেন। মেকারফিল্ডের এই বিশাল জয়ের পর লেবার পার্টির আরও আইনপ্রণেতা স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। জনপ্রিয়তা হারিয়ে এবং জরিপে রিফর্ম ইউকের চাপের মুখে থাকা স্টারমারের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
স্টারমার যদি পদত্যাগ করেন, তবে গত এক দশকে ব্রিটেনে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসবেন, যা প্রায় দুই শতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিবর্তন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, জনসেবা এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবেই ভোটারদের এই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে ২০২৪ সালে ভূমিধস বিজয়ের নেতৃত্ব দেয়া স্টারমার বলেছেন, তিনি ‘সরে দাঁড়াবেন না’। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি কোনো প্রতিযোগিতা হয়, আমি লড়াই করব। আমি বারবার বলেছি যে আমি সরে যাব না।’
দেশজুড়ে লেবার পার্টির কর্মীদের সঙ্গে এক ফোনালাপে স্টারমার নেতৃত্বের প্রচারণার সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি জিনিস আমাদের অবশ্যই এড়াতে হবে—একে অপরকে আক্রমণ করে এবং আমাদের দলকে ছিন্নভিন্ন করে দেশ ও দলকে বিশৃঙ্খলায় ঠেলে দেয়া। এটি কখনোই কাজ করেনি।’
৫৬ বছর বয়সী পেশাদার রাজনীতিবিদ বার্নহাম পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। এই জয় ব্রেক্সিট প্রচারকারী নাইজেল ফারাজের দলের দ্রুত উত্থান ঠেকাতে সক্ষম একজন নেতা হিসেবে বার্নহামের ভাবমূর্তি আরও জোরদার করেছে। জয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি প্রধানমন্ত্রীসুলভ ভঙ্গিতে এক জাতীয় ভাষণ দেন।
সমর্থকদের ভিড়ের উদ্দেশে বার্নহাম বলেন, ‘আমি লেবারকে পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি। এখন আমাদের এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’ জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, ইউটিলিটি বিল কমানো এবং পুনঃশিল্পায়নের মতো বিষয়গুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের পরিবর্তনের শেষ সুযোগ। আমরা ব্রিটেনের জন্য একটি নতুন পথের রূপরেখা দেব।’
লেবার পার্টির সদস্যদের নিয়ে করা জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের লড়াইয়ে বার্নহামই জিতবেন। গত মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর প্রায় এক-চতুর্থাংশ আইনপ্রণেতা স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ সহকর্মীরা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। বার্নহামের ঘনিষ্ঠ মিত্র লেবার আইনপ্রণেতা লুইস হেইগ বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আশা করি, বার্নহাম ও প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনগুলোতে কথা বলতে পারবেন। সম্ভব হলে আমরা নেতৃত্বের লড়াই এড়াতে চাই।’
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে সংসদীয় দলের ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮১ জন আইনপ্রণেতাকে একক প্রার্থীকে সমর্থন করার ঘোষণা দিতে হবে।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



