দেশে এখন
অর্থনীতি

নরসিংদীতে গবাদিপশু উৎপাদনে ৪শ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা

নরসিংদীতে ৫ বছরে পশু উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। আর খামারি বেড়েছে প্রায় দেড়গুণের বেশি। তবে চলতি বছর জেলার চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৮ হাজার পশু বেশি উৎপাদন হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় এবার বাণিজ্য হবে প্রায় ৪শ' কোটি টাকার।

নরসিংদীর চিনিশপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম, কাজ করেন একটি গরুর খামারে। এ দিয়েই চলছে তার জীবিকার চাকা। ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর বাড়তি যত্নে ব্যস্ততা বেড়েছে তার।

সিরাজুলের মতো জেলার প্রায় ৮ হাজার খামারে কাজ করছে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক। এসব খামারে কোরবানির ঈদ ঘিরে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে বেড়েছে মৌসুমী শ্রমিক। নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের।

শ্রমিকদের একজন বলেন, 'যারা আসলে কৃষি কাজ করে এবং গৃহপালিত পশু পালন করে তাদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হচ্ছে।'

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, জেলায় ৫ বছরে খামারির সংখ্যা বেড়েছে দেড়গুণের বেশি। একই সঙ্গে ৪গুণ বেড়েছে উৎপাদন। তবে খামারির সংখ্যা বাড়লেও গোখাদ্যসহ সবকিছুর দাম বাড়ায় তাদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। একদিকে বাড়তি উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চোরাই পথে গরু আসা। সবমিলিয়ে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে খামারিদের।

খামারিদের একজন বলেন, 'লেবার খরচ দিতে হয় দৈনিক ৭০শ' থেকে ৮শ' টাকা। এই হিসেবে গরু পালন কষ্টকর।'

আরেকজন বলেন, 'ঈদ মৌসুমে গ্রামের খামারিদের একটা আসা থাকে ভালো দাম পাবে তবে চোরাই পথে ইন্ডিয়া থেকে গরু আসায় গ্রামের খামারিদের লোকসান হচ্ছে।'

প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও প্রশিক্ষণের কারণে বাড়ছে পশু উৎপাদন। এবার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১৭ হাজার ৭৩২টি পশু জেলার বাইরে পাঠানো সম্ভব। এবার অবৈধপথে বিদেশ থেকে গরু ঢোকার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান প্রাণিসম্পদের কর্মকর্তারা।

নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন ড. ছাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা নজরদারি শুরু করেছি কোনো খামারি যেন মোটা-তাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার না করতে পারে। এই লক্ষ্যে আমাদের অভিযান চলছে।'

চলতি বছর নরসিংদীতে ৭৭ হাজার ৯৩৬টি কোরবানির পশু চাহিদা রয়েছে। আর মোট উৎপাদিত পশুর পরিমাণ ৯৬ হাজার ৬৬৮টি। যার বাজারমূল্য ৪শ' কোটি টাকারও বেশি।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর