ময়লা আবর্জনায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে এখন মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে রাজধানীর খিলগাঁও এর বাগিচা এলাকার ঝিল। যে ঝিল হওয়ার কথা ছিল এলাকাবাসীর স্বস্তির জায়গা সেটিই এখন দুর্ভোগের কারণ।
স্থানীয়রা বলেন, দিন থেকে রাত পর্যন্ত শুধু মশা। দিনের বেলাতেও এর পাড়ে আসা যায় না মশার কারণে। কয়েল-ওষুধ দিলেও মশা যায় না, শুধু বাড়তেই থাকে। ড্রেনে তো কাউকে ওষুধ দিতে দেখিও না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ১১ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শাহজাহানপুর, খিলগাঁও রেলগেট এবং বাগিচা এলাকায় মশার উপদ্রব মৌসুমের আগেই বেড়েছে কয়েকগুণ। নোংরা পানি এবং ময়লা আবর্জনা এসব এলাকায় বেশি হওয়ায় ওষুধ ছিটিয়েও মশা থেকে মুক্তি মিলছে না। গরমের কারণে মশারির পরিবর্তে ব্যবহার বেড়েছে ক্ষতিকারক কয়েলের।
এলাকাবাসী বলেন, এখন গরমে দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। আবার কয়েল দিয়েও কাজ হয় না। ঘরে একসাথে দুই-তিনটা কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। আমরা মশার যন্ত্রণায় অতীষ্ঠ।
লিকুইড স্প্রে করে মশার আবাস্থল ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। ছবি: এখন টিভি
সকালে এই এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধন অভিযানে নামে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মাইকিং এর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি চলে ঝিল পরিষ্কার এবং মশার আবাসস্থল ধ্বংসের জন্য করা হয় লার্ভিসাইড।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশক নিধনে মাসজুড়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হবে।
দক্ষিণ সিটির ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নুরুর নবী ভূইয়া রাজু বলেন, 'মশা আবাসস্থল ধ্বংসের জন্য লিকুইড ছিটাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত মশা নিধন না হবে, আমরা কার্যক্রম চালাতে থাকবো।'
সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বলেন, 'ডেঙ্গুর মৌসুম চলে আসতেছে। এখন আগে থেকেই যদি আমরা কাজ শুরু করি তাহলে ডেঙ্গুর পরিমাণ কম রাখতে পারবো। সেজন্য আমরা চিরুনি অভিযান শুরু করছি।'
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল দুই শিফটে মাসব্যাপী মশক নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।