যুদ্ধ , মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
আবারও ইসরাইলিদের হামলার শিকার গাজার হাসপাতাল
ইসরাইলি বাহিনীর হাত রক্ষা পাচ্ছে না গাজার হাসপাতালের রোগীরাও। হামাসের ঘাঁটি ও অস্ত্রের মজুত থাকার অভিযোগে আল-শিফা হাসপাতালে তাণ্ডব চালায় তারা। নিহত ফিলিস্তিনের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এরইমধ্যে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর করতে ষষ্ঠবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রন্ত্রী।

অবরুদ্ধ গাজার চারপাশে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। অসহায় গাজাবাসীর প্রাণ গেছে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে। শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ৩০ জনের। ইসরাইলিদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি গাজার হাসপাতালগুলো। প্রায় ৬ মাস ধরে চলা যুদ্ধে গাজার ৪ শতাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে। ভেঙে পড়েছে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

সম্প্রতি গাজার উত্তরাঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করেছে ইসরাইল সেনারা। চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকট ও বোমা হামলায় উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা এখন ধ্বংসের মুখে। এ অবস্থায় চতুর্থ দিনের মতো হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। একদিনের ব্যবধানে বাস্তুচ্যুত করা হয় শতাধিক ফিলিস্তিনিকে। গ্রেপ্তার করা হয় হাসপাতালে আশ্রয় নেয়া দেড় শতাধিক মানুষকে।

এরপরও ক্ষান্ত হচ্ছে না সেনারা। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের আরও প্রায় সাড়ে ৩০০ সদস্য এখানে লুকিয়ে আছে। তাদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে ইসরাইল। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, 'আল-শিফা হাসপাতালের লাইব্রেরিতে আছি। এখানে আমরা অভিযান পরিচালনা করে বিপুল অস্ত্র, লঞ্চার, গ্রেনেড, একে-৪৭সহ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছি। হামাস গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য হাসপাতালকে ব্যবহার করছে। তাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।'

গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরুর পর ষষ্ঠবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সফরের প্রথম দিন সৌদিতে পৌঁছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর মিসর ও ইসরাইল সফর করবেন। এই সফরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে একটি গ্রহণযোগ্য উপায় বের করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, 'গাজায় শান্তি ফেরাতে আমরা শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তির জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে।'

এর আগেও বেশ কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে, তবে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ হয়নি। যুদ্ধ বিরতির আলোচনা ভেস্তে গেছে বেশ কয়েকবার। হামাস ও ইসরাইল কেউ কারও শর্ত মানতে নারাজ। আলোচনার টেবিলে একটি শক্তিশালী প্রস্তাব রেখে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

এমএসআরএস