একটি ফুটবল ম্যাচে দর্শকরা সাধারণত দেখেন দুই দলের লড়াই। কখনো চোখ থাকে ফুটবলারদের দ্বৈরথের দিকে। কিন্তু প্রতিটি দৌড়, স্প্রিট আর ট্যাকলের সঙ্গে ফুটবলারদের শরীরের ভেতরেও চলতে থাকে কঠিন এক লড়াই। যেখানে প্রতিটি দৌড়ে খরচ করেন ক্যালরি, ঘামের সাথে ত্যাগ করেন লবণ ও পানি।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ফুটবলার ৯০ মিনিটে গড়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার করে দৌড়ান। গড়ে একজন খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার ক্যালরি শক্তি খরচ করেন। তবে এই পরিশ্রম শুধু দৌড়ানোর কারণে নয়। হঠাৎ গতি বাড়ানো, থেমে যাওয়া আর দিক পরিবর্তনের মতো ঘটনায় মোট দৌড়ানোর প্রায় ২৬ শতাংশ ব্যয় হলেও, এতেই খরচ হয় মোট শক্তির প্রায় ৪২ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
ফুটবল ম্যাচে আরেকটি সাধারণ ঘটনা খেলোয়াড়দের ঘাম। স্বাভাবিক পরিবেশে ঘামের পরিমাণ খেলোয়াড় ভেদে ভিন্ন। ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ও ৬৪ শতাংশ আর্দ্রতায় খেলার ক্ষেত্রে, ৯০ মিনিটে খেলোয়াড়রা গড়ে ৩ দশমিক ১ লিটার ঘাম হারান। একই সঙ্গে হারান প্রায় ৪৫ মিলিমোল সোডিয়াম। ম্যাচ শেষে একেকজন খেলোয়াড়ের ওজন গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়।
শারীরিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ম্যাচের মাঝে সুযোগ পেলেই পানি পান করেন ফুটবলাররা। প্রিমিয়ার লিগে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৭০০ মিলিলিটার পানি পান করেন। তবে গরম ও আর্দ্র পরিবেশে শরীর যতটা তরল হারায়, তার পুরোটা ম্যাচ চলাকালে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
আর তাই ম্যাচ শেষ হলেই শেষ হয় না ফুটবলারের লড়াই। শরীরের হারানো পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ করতে নামতে হয় আরেক যুদ্ধে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের পাশাপাশি নিতে হয় পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম। আর এরপর আবার নামতে হয় নতুন ম্যাচে, নতুন লড়াইয়ে।





