দেশে এখন

রাজধানীতে চলছে পার্বত্য মেলা

রাজধানীতে চলছে চারদিনের পার্বত্য মেলা। এ বছর মেলায় অংশ নিয়েছে ৯৭টি পাহাড়ি স্টল। পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য, খাবার, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতে বোনা পণ্য পাওয়া যাচ্ছে একই ছাদের নিচে।

বাঁশের ভেতর কলাপাতায় মুড়িয়ে তৈরি হয় চিকেন ব্যাম্বু। পাহাড়ি নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে এবারই প্রথম মেলায় এসেছেন খাগড়াছড়ির কং মারমা। পার্বত্য এলাকার খাবারের স্বাদ নগরবাসীদের কাছে তুলে ধরতে মেলায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, 'এই মেলার মাধ্যমে আমরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাবারগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করতে পারবো। বিভিন্ন ধরনের পিঠা আছে। সবগুলোই পাহাড়ি বিন্নি চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করা।'

সবচেয়ে বেশি ভিড় চোখে পড়ে পাহাড়ি ফলের স্টলগুলোতে। পাহাড়ি পেঁপে, কলা, আনারস, তেঁতুল থেকে শুরু করে ৫৬ ধরণের কৃষিপণ্য নিয়ে এবার মেলায় অংশ নিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। অর্গানিক আর ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি এসব পাহাড়ি ফল ও মসলার।

ক্রেতারা বলেন, 'এখানের ফলগুলো খুব মিষ্টি এবং ফরমালিনমুক্ত থাকে। এই ফলগুলোতে পুষ্টির পরিমাণ বেশি। যে কারণে আসা হয়।'

শুধু পাহাড়ি ফল নয় হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতে বোনা পণ্যের স্টলগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের আনাগোনা। রাজধানীতে বসে পাহাড়ি অঞ্চলের পণ্যের এমন প্রদর্শনীতে খুশি নগরবাসী।

মেলার উদ্বোধন করছেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর প্রচার ও বিপণনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা তৈরি মেলার লক্ষ্য।'

আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, 'পাবর্ত্য জেলার নৈর্সগিক সৌন্দর্য সমন্বয় এবং পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পার্বত্য জেলাসমূহ আজ কোন পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের মানুষ সম অংশীদার'

এই মেলা পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে অন্য জাতিগোষ্ঠীর ঐক্যের বন্ধন তৈরি করবে বলে মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। বলেন, 'আমরা চাই সকল জাতিগোষ্ঠী, সম্প্রদায় এবং সংস্কৃতির মাঝে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করতে।'

 ১৪ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনের এই পার্বত্য মেলা সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলবে।

 

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর