রাজধানী প্যারিসে গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভের আঁচ, দিনে দিনে কেবল বেড়েছে। ১০ দিনে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ফ্রান্সে। সবশেষ মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলে সহিংস হয়ে ওঠে বিক্ষোভকারীরা।
সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের জন্য আর অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লিলে ময়লার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়ে বোতল, পাথর ইত্যাদি। বাসস্টপ আর বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড ভাঙচুরের পর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘এতো পুলিশ কেন? ছাত্র আন্দোলন হোক বা সাধারণ সামাজিক আন্দোলন, পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক কারণে দমনপীড়ন চালায়। অথচ সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় বাজেটের তীব্র ঘাটতি গুরুতর একটি সমস্যা বলে এই বিক্ষোভ যৌক্তিক।’
এদিন সারা দেশে স্কুল স্কুলে চলে কিশোর শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি। প্রতিবাদ জানায় শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা, শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ সময়সূচিসহ নানা ইস্যুতে। দেশজুড়ে ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৪শ'টির কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন অঞ্চলে আটক সাড়ে ৪শ শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই শিশু, জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পশ্চিমে বোর্দুঁ, রেন, নন্থ, দক্ষিণে মার্সেই, লিসে লামার্তিনে শিশুদের সাথে সংঘাতে জড়ায় পুলিশ। সহিংসতায় আহত হয় অর্ধশত পুলিশ সদস্য। প্যারিসের উপকণ্ঠে সেইন-সেন্ট-দিনিজে কয়েকশ' শিক্ষার্থীর সাথে বিক্ষোভে যোগ দেন মেয়র বেলি বাগায়োকো। ক্ষোভ জানান, স্বল্প আয়ের এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে। এসময় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে দাঙ্গা পুলিশ। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে, জাতীয় বাজেটে অর্থবরাদ্দ কমাতে সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একইদিন ধর্মঘট করেন বিভিন্ন খাতের কর্মজীবিরা।
সবমিলিয়ে দেশজুড়ে একদিনের ধর্মঘটে যোগ দেয় তিন লাখ মানুষ, দাবি শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর। শুধু প্যারিসে রাজপথে নামে ৩০ হাজার মানুষ। গ্রীষ্মের ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই থামতে না থামতেই তহবিল ঘাটতির বিরোধিতা করেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।
অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের একজন বলেন, ‘এ বছর চারজন দমকলকর্মী মারা গেছেন, যে মৃত্যু তাদের প্রাপ্য ছিল না। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারতো। কিন্তু তা না হওয়ায় আমাদের চরম মূল্য দিতে হলো। আমাদের কাজ করার মতো সামর্থ্য এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’
দুইশো কোটি ইউরো সাশ্রয়ে ২০২৭ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন জমা রাখার পরিকল্পনা করছে ফরাসি সরকার। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, এটি ঘটলে তা হবে টানা চতুর্থ এবং ম্যাক্রোঁর শাসনকালে অষ্টমবার বার্ষিক বেতন স্থির করার ঘটনা। সবমিলিয়ে আসন্ন বাজেটে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের, যার ফলে প্রবৃদ্ধির হার কমবে এবং রাজস্ব ঘাটতি নিরসনের প্রচেষ্টা আরও জটিল হবে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচনের সাত মাস এবং ২০২৭ সালের খসড়া বাজেট প্রকাশের মাত্র দু'দিন আগে, বিভিন্ন জনমত জরিপে স্পষ্ট যে জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমেছে প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার মধ্য-ডানপন্থি সরকারের।





