ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সরবরাহ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহ
কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহ | ছবি: এখন টিভি
0

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কাভার্ড ভ্যানে সরবরাহ করা হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় চালক-যাত্রীরা। তিতাসের কর্মকর্তা বলছেন, মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা গ্যাস সরবরাহ করতে দিচ্ছেন। আর বিস্ফোরক অধিদপ্তর বলছে, সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেয়া অতিরিক্ত ঝুঁকি থাকায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিএনজি স্টেশনসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি ফিলিং স্টেশনে ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে সারি সারি সিলিন্ডার নিয়ে প্রতিনিয়ত ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেয়া হচ্ছে। পাশ দিয়েই চলছে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি। কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যদি হঠাৎ যদি ব্লাস্ট হয়ে যায়, তাহলে তো মরম একবারে। এখন ব্লাস্ট হয়, তাহলে তো কোম্পানির মনে করেন এখানে সিএনজি কোম্পানি যারা আছে তাদেরও লস। আশেপাশে যারা দোকানপাট থাকবে, মানুষ থাকবে তারাও মারা যাবি।’

সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের চালকরা বলছেন, মৃত্যুঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে তাদের গাড়ি চালাতে হয়। চালকদের মতো একই কথা বলছেন ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা।

চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ব্লাস্ট হইলে তো আমরাও তো বাঁচবো না, আর এলাকাও মানে ছাফা হয়া যাবি।’

আরও পড়ুন:

ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কয়জনের তাগিদেই আর কি ফ্যাক্টরি পরিচালনা করার জন্য আর কি গ্যাসটা নেয়া হয়।’

এদিকে তিতাস কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ করার মৌখিক অনুমতি রয়েছে তাদের।

তিতাসের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘পেট্রোবাংলা এবং মন্ত্রণালয়ের থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হইলো যে আপাতত এখনই যেহেতু গ্যাস সংকট আছে, ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করা যাবে না। কিছু কিছু কাভার্ড ভ্যান যে চলবে, এটা মৌখিক সিদ্ধান্ত আর কি।’

এ বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘গ্যাস পরিবহন বা গ্যাস ফিলিংয়ের লাইসেন্স কে দিয়ে থাকে? এটা বিস্ফোরক অধিদপ্তর। তিতাস সেখানে কেউ না। এটা যা কিছু করতে হবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের আইন মোতাবেক ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী করতে হবে। সরকারকে শক্তিশালী হতে হবে এবং প্রফেশনাল লোক রাইট ম্যান করেন এবং এক্সপার্ট লোক তৈরি করেন। বিআরটিএ-তে কেমিক্যাল এক্সপার্ট লোক থাকবে, তারপরে কাস্টমসে থাকবে, পুলিশের ভেতরে থাকবে, ফায়ারের ভেতরে থাকবে।’

আরও পড়ুন:

সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেয়ার জন্য কোনো ফিলিং স্টেশনেরই লাইসেন্স নেই। এসব কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেয়া অতিরিক্ত ঝুঁকি থাকায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ফিলিং স্টেশনসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কর্মকর্তাদের।

বাংলাদেশ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রধান বিস্ফোরণ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘সে ইন্ডাস্ট্রিতে সিএনজি মানে দেবে এবং সেই সিএনজি দিয়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলা চলবে, এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই আর কি। আমরা এরমধ্যেই সকল সিএনজি যে স্টেশন আছে তাদেরকেও আমরা চিঠি দিয়েছি, আমরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকেও চিঠি দিয়েছি যে এই কাভার্ড ভ্যানে করে সিএনজির সিলিন্ডার যে পরিবহন করছে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ, তারা যেন এটা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।’

মহাসড়কে শত শত যানবাহন চলাচল, পাশে দাহ্য গ্যাসের সরবরাহ—দু’য়ের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

এসএস