হঠাৎ ৩৩ ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, বিপাকে গ্রাহকরা

ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ
ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ | ছবি: এখন টিভি
0

হঠাৎ করেই ৩৩টি ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ করায় বিপাকে গ্রাহকরা। কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন ও আপগ্রেডেশন জটিলতাই কারণ বলছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ছয় দিন এটিএম, পিওএস, ই-কমার্স, এনপিএসবি এবং বাংলা কিউআর সেবা বন্ধের কথা জানিয়ে এসএমএস করা হয় গ্রাহকদের। তবে অভিযোগ আছে, সেবা বন্ধ হবার পর খুদে বার্তা পৌঁছে গ্রাহকদের কাছে।

এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। পকেটে কার্ড, একাউন্টে টাকা থাকা সত্ত্বেও এটিএম বুথে গিয়ে মিলছে না ক্যাশ। বেশ কয়েকটি এটিএম বুথ ঘুরে দেখা গেল কোথাও আউট অব সার্ভিস, কোথাও ঝুলছে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার নোটিশ।

গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘টাকা উত্তোলনের জন্য এসেছিলাম। তো এসে দেখি যে হচ্ছে যে এখন বন্ধ আছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এইটা আমরা জানি না। এখন আমি যখন তুলতে গিয়েছিলাম, তখন ওনাদের সিকিউরিটি বলে যে স্যার এইটা তো এই ৬-৭ দিন ধরে আপনার এই প্রবলেম।’

ব্যাংক থেকে আগেভাগে সতর্কীকরণ নোটিশ না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাও করতে পারেননি অনেকে। শপিং মল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজার, ডিজিটাল লেনদেন করতে গিয়ে থমকে দাঁড়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:

গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে থেকে জানলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হইতো। এখন আজকে ৪ তারিখ... ৪ তারিখ থেকে তো আজকে তো ৫ তারিখ হয়ে গেল। এখন তো আর ইয়ে করা যাচ্ছে না।"’

গত রোববার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়েছে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশন ও আপগ্রেড কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। টানা ৬ দিনের ডাউন টাইমের কারণে বন্ধ রয়েছে এই কনসোর্টিয়ামের আওতাধীন ৩৩টি ব্যাংকের এটিএম, পস, ই-কমার্স, এনপিএসবি এবং বাংলা কিউআর সেবা।

আইটিসি পিএলসির হেড অব এজিএস শাহ এমকে হাসান বলেন, ‘আমরা নতুন সিস্টেমকে মাইগ্রেট করতেছি আমাদের সিস্টেমে। যেটা আগের সিস্টেম থেকে মোর রোবাস্ট। আপডেট করতেছি কারণ একটা জিনিস, একটা আগের অ্যাপ্লিকেশন যেটা ছিল ইট ওয়াজ ওল্ড ভার্সন। এখন যখন আমি নতুন একটা ভার্সনে আনতেছি, তার মানে আমি আরও বেশি আপডেটেড করতেছি এবং ব্যাংক যারা আছে, আমাদের কনসোর্টিয়াম মেম্বার ব্যাংক যারা আছে, তাদের অপারেশন অনেক বেশি স্মুথ হবে।’

ভোগান্তি শুধু এটিএম বুথেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যারা নিয়মিত কেনাকাটা কিংবা রেস্তোরাঁ বিল পরিশোধ করেন, তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে। অগ্রণী ব্যাংক বলছে, সিস্টেমের এই জটিলতায় কেবল তাদেরই ৭ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এনামুল মাওলা বলেন, ‘ডেফিনেটলি এখানে কিছু ভোগান্তি হবে। কারণ আমরা যারা এই ধরনের ডিজিটাল ট্রানজেকশনে হ্যাবিচুয়েটেড, আমরা কিন্তু আর ব্রাঞ্চে আমরা যাই না। আমরা এটিএমেই আমরা ক্যাশ যদি রিকোয়ার্ড হয়, ক্যাশ এটিএমেই আমরা ব্যবহার করি, পাশাপাশি আমরা পেমেন্টের জন্য আমরা এই বাংলা কিউআর এরইমধ্যে চালু হয়েছে, আপনারা জানেন। যেকোনো ধরনের পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্টে কিন্তু আমরা বাংলা কিউআর ইউজ করি। আমার আজকেই আমরা একটা লিস্ট আউট করেছি, আমাদের রেগুলার কাস্টমার যারা, ৭ লাখ ৮০ হাজার কাস্টমার এই ইম্প্যাক্টেড হবে এই এই সার্ভিস ডাউন... ডাউনএজের জন্য।’

আরও পড়ুন:

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম আপগ্রেডেশনের এই সময়ে শাখাগুলোতে গিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা তোলা যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘আমার ওখানে অ্যাপের একাউন্টও আছে। একই একাউন্ট আমি কখনো অ্যাপেও কাজ করি, কখনো আমি এটিএম দিয়েও কাজ করি, আবার আমি তো চেকের মাধ্যমেও টাকাটা তুলি। তো যেহেতু একটা বিকল্প আছে, কয়দিন মানুষ ওইরকম... যারা খুব প্রম্পট কাজ করে, তাদের জন্য একটু কষ্ট হবে। তো দিনশেষে তো সে টাকাটা তুলতে পারবে, তার টাকা তোলার ব্যবস্থাটা আছে।’

এটি ব্যাংকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি।

ক্যাশলেস সোসাইটির স্বপ্ন যখন বাস্তবায়নের পথে, তখন একটি নেটওয়ার্ক আপডেটের জন্য টানা ৬ দিন লাখো গ্রাহকের লেনদেন স্থবির হয়ে থাকাটা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আগামীতে এ ধরনের কারিগরি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে কর্তৃপক্ষ।

এসএস