গত পাঁচ বছরে শেয়ারবাজারে নাইকির শেয়ারের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে। এর ফলে শত শত কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্লু-চিপ ফার্মগুলোর তালিকা এসঅ্যান্ডপি ১০০ ইনডেক্স থেকেও বাদ পড়েছে আন্তর্জাতিক এই ব্র্যান্ডটি।
অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে দুই বছর আগে কোম্পানির অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ইলিয়ট হিলকে নাইকির শীর্ষ পদে বসানো হয়। তবে তার দেওয়া ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ধীর। কৌশলগত ভুল হিসেবে খুচরা বিক্রেতাদের বাদ দিয়ে কেবল নিজস্ব অনলাইন মাধ্যমে বিক্রি বাড়ানো এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে বাজেট কমানোকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এই সুযোগে অন ও হোকার মতো নতুন ব্র্যান্ডগুলো নাইকির বাজার শেয়ার দখল করে নিয়েছে।
কোম্পানিটির জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রস্থান। নাইকির সঙ্গে ২০ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে উদীয়মান সুইস ব্র্যান্ড ‘অন’-এ যোগ দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার। এর আগে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালও নাইকি ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এডিডাসে যোগ দেন।
আশির দশকে মাইকেল জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি করে ক্রীড়াজগতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল নাইকি। পরবর্তীতে টাইগার উডস, সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে জুটে সফল বিপণন বজায় রেখেছিল তারা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধান নির্বাহী জন ডোনাহোর আমলে ই-কমার্সভিত্তিক অনলাইন বিক্রিতে অতিমাত্রায় জোর দেওয়ায় খুচরা বিক্রির বাজারে বড় ধস নামে।
সর্বশেষ প্রান্তিকে নাইকির আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা বাজার পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম। বিশেষ করে চীনে কোম্পানিটির বিক্রি ২৬ শতাংশ কমেছে। নাইকির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ডেভ ডেন্টন জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যার কারণে আগামীতে কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা রয়েছে।





