মাঠের এই স্নায়ুচাপের জয়ের পর যখন ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ও উদযাপনের হাওয়া, ঠিক তখনই মিক্সড জোনে ঘটল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তদের পাশাপাশি সুদূর বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের অন্যতম দুই প্রধান তারকা মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো ও গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানের করা গোলের পর যখন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম; ঠিক তখনই গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের চমৎকার এক পাস থেকে দলের ত্রাণকর্তা হয়ে দারুণ এক হেডে বল জাপানের জালে জড়ান ‘ব্রাজিলের ট্যাঙ্কার’ খ্যাত মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। তার এই গোলেই মূলত সমতায় ফিরে ম্যাচে চালকের আসনে বসার আত্মবিশ্বাস পায় ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে লড়াকু এই মিডফিল্ডার যখন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক ক্যাসেমিরোর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা এখন যখন এখানে কথা বলছি, তখন বাংলাদেশে গভীর মধ্যরাত। সেখানে এই মুহূর্তে বাংলাদেশি ব্রাজিল ভক্তরা রাস্তায় নেমে আপনাদের এ জয় উদযাপন করছে। আপনি কি সেই বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য কিছু বলতে চান?’
আরও পড়ুন:
এমন আবেগঘন বার্তার উত্তরে ক্যাসেমিরো মুখে চওড়া হাসি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ, ধন্যবাদ আমাদের সমর্থন করার জন্য, বাংলাদেশ।’
ক্যাসেমিরোর পর মিক্সড জোনে বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য নিজের হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিলেন ব্রাজিলের অতন্দ্র প্রহরী গোলকিপার অ্যালিসন বেকার।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে অ্যালিসন যখন তার সতীর্থদের কাছে ফিরে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক বাংলাদেশি সাংবাদিক পিছু ডেকে বলেন, ‘অ্যালিসন, উই আর ফ্রম বাংলাদেশ।’ বাংলাদেশ নামটি শোনামাত্রই থমকে দাঁড়ান বিশ্বের অন্যতম সেরা এ গোলরক্ষক। পিছু ফিরে সোজা চলে আসেন সেই সাংবাদিকের সামনে।
উচ্ছ্বসিত অ্যালিসন বলেন, ‘ওহ, সুন্দর! আমাদের সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। আমি (সোশ্যাল মিডিয়ায়) অনেক সুন্দর কিছু ভিডিও দেখেছি। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।’
এরপর সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশি সমর্থকরা যেভাবে আপনাদের জয় উদযাপন করে, তার ভিডিওগুলো কি আপনি সত্যিই দেখেছেন?’
উত্তরে অ্যালিসন যেন আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দেখেছি। আমি বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখেছি। আমি বাংলাদেশের মানুষগুলোকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও আপনাদের অনেক ভালোবাসি। আমাদের প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ঈশ্বর আপনাদের সবার মঙ্গল করুন।’
ম্যাচের শুরু থেকেই লাতিন ছন্দকে বোতলবন্দি করে রেখেছিল গতিময় ফুটবল খেলা জাপান। ২৯ মিনিটে গোল খেয়ে যখন ব্রাজিল হন্যে হয়ে সমতা ফেরানোর পথ খুঁজছিল, তখনই ত্রাতা হিসেবে ক্যাসেমিরোর সেই দুর্দান্ত হেড ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
ক্যাসেমিরোর গোলের পর সেই মোমেন্টাম ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে জাপানকে আক্ষরিক অর্থেই চেপে ধরে ব্রাজিলিয়ানরা। একের পর এক ধারালো আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত জাপানিজ ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের চীনের প্রাচীর ভাঙা যাচ্ছিল না। অবশেষে, নাটকের তখনও বাকি ছিল। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) একদম শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে জাপানকে স্তব্ধ করে দেয় ব্রাজিল। আর এই ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস-ক্যাসেমিরোরা।





