গ্রামীণ কৃষি
কৃষি
দিনাজপুরে রঙিন ফুলকপি চাষে বিপ্লব
প্রথমবারের মতো দিনাজপুরে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে করে সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। আর কম খরচে বেশি লাভ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের চাষীদের।

জেলার সীমান্তবর্তী হিলি-হাকিমপুর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তার ২০ শতাংশ জমিতে বেগুনি রঙের ভ্যালেনটিনা জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। রঙিন এসব সবজি বাজারজাতও শুরু করেছেন তিনি। যা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।

এ প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের ২৩টি উপজেলায় ৩০ জন কৃষক হলুদ, সবুজ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন। বাজারে এসব ফুলকপির চাহিদাও রয়েছে বেশ। কম খরচে লাভ বেশি ও মাত্র ৬৫ দিনে বাজারজাত করতে পারায় নতুন জাতের ফুলকপি চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই হাজার চারা লাগিয়েছি। বর্তমানে আমি বাজারজাত করছি। প্রায় ৫০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে, যা থেকে আমি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পেয়েছি।’

স্থানীয়রা বলেন, ‘গোলাম ফুলকপি আবাদ করেছে। এই ফুলকপি খুব সুস্বাদু, আগামীতে আমরাও চাষ করার চেষ্টা করবো।’

এই জাতের কপির আবাদ আগামীতে বাড়াতে পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের। হাকিমপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘এই রঙিন ফুলকপির জাত একটা নতুন জাত। এবারই প্রথম হয়েছে। সুতরাং এই জাতের  কপির প্রসারের জন্য প্রচারণা করছি। যেন বৃহৎ পরিসরে চাষ করা হয়। বাজারে যে সাদা ফুলকপি দেখি তার থেকে রঙিন এই কপির গুনাগুণ  ভালো ।  এতে আমাদের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আসবে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, ‘এই ফুলকপির দাম সাধারণ সাদা ফুলকপির চেয়ে বেশি। বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুষ্টিমানও বেশি। আশা করছি, অন্য কৃষকরা দেখে চাষে উৎসাহী হবে।

দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়নের প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

ইএ