চুক্তি
অর্থনীতি
আইএমএফ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬টি শর্তের ২টিই পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ
তবে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্টি জানালেও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও কর আদায়ের লক্ষ্যপূরণ না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংস্থাটির। আইএমএফ পর্ষদে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের প্রস্তাব উঠছে আগামী মঙ্গলবার।

২০২২-২৩ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে কমতে থাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। সেই সাথে শুরু হয় ডলার সংকট। আর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন।

সংকট সামাল দিতে আইএমএফের দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। তখন চিঠি চালাচালি ও আইএমএফ কর্তাদের কয়েকবার ঢাকা সফরের পর প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায় সংস্থাটি। এরপর চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে অনুমোদিত হয় ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব।

অনুমোদনের তিনদিন পরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ছাড় দেয় সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ২০১২ সালের পর এই সরকারের ৩ মেয়াদে দ্বিতীয়বার আইএমএফের শর্তযুক্ত ঋণ পায় বাংলাদেশ। তখনও রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার, সরকারের ভর্তুকি ব্যয় কমানোসহ ১১ শর্ত দিয়েছিল সংস্থাটি।

২০২৩ সালে অনুমোদিত এ ঋণেও যুক্ত হয় শর্তের বেড়াজাল। সংস্কারের প্রাথমিক শর্তগুলোর মধ্যে রাজস্ব, মুদ্রা ও বিনিময় হার, আর্থিক খাতসহ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত ও সামষ্টিক কাঠামো সংস্কারের শর্ত দেয় আইএমএফ। যা চলমান থাকবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।

এরপর সংস্কারের উদ্যোগও নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে জরুরিভিত্তিতে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্কারের শর্ত দিয়েছিল আরও কয়েকটি। যা পূরণ হলে দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৬৬ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে।

তবে বেশকিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, গুটিকয়েক শর্ত পূরণে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কিস্তির বাধ্যতামূলক শর্তের মধ্যে রিজার্ভ ও কর আদায়ে লক্ষ্য অর্জনে যে ৬টি শর্ত ছিল তার ২টিই পূরণ এখনও করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, 'আইএমএফ যে ডলার দিচ্ছে তা ডলার রিজার্ভে যোগ হবে- যা ভালো। তবে আমাদের মৌলিক সমস্যা আমরা নিজেরা সমাধানের পথে না গেলে আইএমএফ সেগুলো সমাধান করতে পারবে না।'

আইএমএফের প্রস্তাবিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে, গেলো নভেম্বর শেষ নাগাদ রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৪০ বিলিয়নে। যেখানে গেলো ৩০ জুন পর্যন্ত শর্ত ছিল, নির্ধারিত ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভসহ ন্যূনতম ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা কর আদায়ের।

এমন অবস্থায় অক্টোবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে করে আইএমএফ। নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় তখন শর্ত কিছুটা শিথিল করে সংস্থাটি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার পার পাওয়া গেলেও তৃতীয় কিংবা চতুর্থ কিস্তির শর্ত পূরণের বিষয়ে আর ছাড় নাও দিতে পারে আইএমএফ।

মাশরুর রিয়াজ আরও বলেন, 'চতুর্থ বা পঞ্চমবারে আইএমএফ আর ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে না। এক বা দুই বছর পার হয়ে গেলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।'

খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থপাচার রোধসহ আর্থিক নানা অনিয়মের দৃশ্যমান অগ্রগতি না করে ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সংশয়ে বিশেষজ্ঞরা।

এমএসআরএস
আরও পড়ুন: