মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
গাজায় এখনও বন্ধ হয়নি ইসরাইলি হামলা
নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস হলেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। জিম্মিদের মুক্তি না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হবার পরেও গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) ভোরে রাফা শহরে একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বোমা হামলায়। ভয়াবহ এ হামলায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। দেইর এল বালায় ইসরাইলের আকাশ হামলায় নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। হামাসকে নির্মূলের নামে সামরিক অভিযান চলছে উপত্যকার ৩টি হাসপাতালে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের মতবিরোধ চরমে। বাইডেন প্রশাসন তাদের প্রকৃত অবস্থা থেকে সরে এসেছে বলে দাবি নেতানিয়াহু সরকারের। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা থাকলেও তা বাতিল করেছে তেল আবিব। ইসরাইলের এমন পদক্ষেপে থমকে যেতে পারে বিলিয়ন ডলার অস্ত্র সহায়তার পরিকল্পনা। ডেমোক্রেট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি শিশুদের অনাহারে মারতে ইসরাইলকে আর সহায়তা দিবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা তেল আবিবের।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, 'জিম্মিরা গাজায় আটকে থাকা অবস্থায় আমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারি না। উপত্যকাজুড়ে বিজয় অর্জিত না হলে উত্তরে যুদ্ধ শুরু হবার আশঙ্কা আছে।'

৯ এপ্রিল পর্যন্ত হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ১৪-০ ভোটে পাস হওয়ায় জাতিসংঘকে অভিনন্দন বার্তায় ভাসাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। এতদিন জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে শক্তিশালী ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ পেলো সংস্থাটি।

জাতিসংঘ সনদের ৭নং অধ্যায়ে নিরাপত্তা পরিষদে পাসকৃত প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে যা মেনে চলা প্রতিটি দেশের জন্যই বাধ্যতামূলক। প্রস্তাব না মানলে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা দেয় জাতিসংঘ সনদ। সংস্থাটির মহাসচিব জানিয়েছেন প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

১৭২ দিনের যুদ্ধে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার।

এমএসআরএস