বিদেশে এখন
কয়েক মাসের মধ্যেই অস্ত্র পাবে ইউক্রেন
কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়া থেকে জব্দ করা অর্থের রাজস্ব কর দিয়ে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়য়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে এক সম্মেলনে এই পরিকল্পনায় একযোগে কাজ করতে সম্মত হয় ২৭ দেশের এই জোট। এদিকে রাশিয়ার মুনাফার অর্থ ইউক্রেনের অস্ত্র কেনায় ব্যবহার করলে চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।

ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তার বরাদ্দ দিয়েছে ইইউ। কিন্তু সদস্য দেশগুলো নিজেরাই যখন বাজেট সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে রাশিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে ইইউ।

ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট চালর্স মিশেল বলেন, ‘আমরা এই প্রস্তাবে খুব দ্রুত কাজ করবো। কারণ ইউক্রেনের খুব দ্রুত সামরিক সহায়তা প্রয়োজন। এই জোটের ২৭ নেতাই বুঝতে পেরেছেন, ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সহায়তা কতোটা জরুরি। ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে।’

মার্কিন কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য ৬ হাজার কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার প্যাকেজ স্থগিত হওয়ার পর অস্ত্র সংকটে বিপাকে পড়ে ইউক্রেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে পশ্চিমা বিশ্ব। ব্রাসেলসে আয়োজিত সম্মেলনে নেতারা বলেন, ১শ’ কোটি ডলার জুলাইতে ছাড় করে দেয়া হবে। ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রস্তাব, জব্দ অর্থের মুনাফার ৯০ শতাংশই ব্যয় হবে সমরাস্ত্রে। কমিশনের তথ্য বলছে, এই মুনাফার পরিমাণ বছরে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ কোটি ইউরো। জার্মানি বলছে, এই অর্থের কোন মালিক নেই, তাই ইউক্রেনের জন্য তা ব্যবহার করা যায়।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লেন বলেন, ‘বাজেয়াপ্ত অর্থ থেকে  আসা মুনাফার মধ্যে কিছু অংশ জুলাইতে পাবে ইউক্রেন। পাশাপাশি রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য রপ্তানি করে আগের মতো রাজস্ব আয় করতে পারবে না।’

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ বলেন, ‘পুতিনকে কড়া বার্তা দিচ্ছি। তার হিসেব ভুল, ভেবেছে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে পারবো না। কিন্তু এই মুনাফা থেকেই অর্থ যাবে ইউক্রেনে, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’

যদিও রাশিয়া বলছে মস্কোর জব্দ করা অর্থ ইউক্রেনের স্বার্থে ব্যবহার করা মানে এই অর্থ চুরি করার শামিল। ইইউ'র কড়া সমালোচনা করে ক্রেমলিন বলছে, নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে তারা। পাশাপাশি কড়া প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর জি সেভেনভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়ার ৩০ হাজার কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত আছে।

গাজায় সেনা অভিযান বন্ধে পশ্চিমারা আহ্বান জানাচ্ছে ইসরাইলকে। অন্যদিকে, ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেয়া হচ্ছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা। জাতিসংঘ বলছে, পশ্চিমারা গাজা-ইউক্রেন ইস্যুতে দ্বিমুখী আচরণ করছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা পরিহার করা উচিত।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস বলেন, ‘ইউক্রেনে শান্তি আসা খুব জরুরি। আন্তর্জাতিক নীতি আর ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। যে কারণে গাজায় যুদ্ধবিরতি চাই আমরা। কিন্তু ইউক্রেন, গাজা দুই ইস্যুতেই সমান অবস্থান রাখা জরুরি। আমাদের লক্ষ্য, সংঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা।’

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে দুর্বল হলেও যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে গণহারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক বোমা ফ্যাব তৈরি করছে মস্কো। আর আর্টিলারি তৈরি বেড়েছে ২২ গুণ।

ইএ