প্রবাস
বিদেশে এখন
পথে বসার ঝুঁকিতে কানাডার কয়েক লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির অন্যতম কানাডায় দেউলিয়া হওয়ার পথে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গেলো মাসে কানাডা সরকার করোনা মহামারি পূর্ববর্তী সহায়তা বন্ধ করে দেয়ায় তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। সুদের হার বেড়ে গিয়ে অর্থনীতি ধীর হয়ে যাওয়ায় ওই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় অটোয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীসংখ্যা ১০০ -এর কম, এমন প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কানাডার জাতীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতে কর্মরত সোয়া এক কোটি পেশাজীবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কাজ করেন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে।

গেলো বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে কানাডায় দেউলিয়াত্ব এক লাফে ৩৮ শতাংশ বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের হুঁশিয়ারি, দেউলিয়াত্বের ঊর্ধ্বমুখী হার প্রভাব ফেলবে পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

গেলো মাসে কানাডার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুদমুক্ত ৬০ হাজার কানাডিয়ান ডলারের ঋণ পরিশোধের সময় শেষ হয়। মহামারির সময়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে এ ঋণ নিয়েছিল ৯ লাখ ব্যবসায়ী।

গেলো সপ্তাহে কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড জানান, সরকারি সহায়তার ওই অর্থ ফেরত দেননি পাঁচ ভাগের এক ভাগ ব্যবসায়ী। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমিতি কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিজনেস (সিএফআইবি) জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন এক-চতুর্থাংশ ঋণগ্রহীতা।

২০২১ সালে কানাডায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কর্মরত ছিলো প্রায় ১২ লাখ মানুষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেসময় জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান ছিল এক তৃতীয়াংশ।

সিএফআইবি’র প্রেসিডেন্ট ড্যান কেলি জানান, ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেয়াই কয়েক লাখ ব্যবসায়ীর কাছে সরকারি ঋণ পরিশোধের একমাত্র পথ। যারা সরকারের ঋণ শোধ করেছেন, তাদের অনেককেই, প্রায় সোয়া দুই লাখ ব্যবসায়ীকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।

কানাডায় সুদের হার যখন ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, তখন সরকারের সুদমুক্ত ঋণ শোধে উচ্চ সুদে বেসরকারি ঋণ নিতে হয়েছে এই ব্যবসায়ীদের।

যেসব ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ পাননি, তাদের আগামী দুই বছর বাধ্যতামূলক পাঁচ শতাংশ বার্ষিক সুদ গুণতে হবে।

২০২৩ সালের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাথাপিছু আয় অনুযায়ী ২০২৪ সালেও ভোক্তা পর্যায়ে খরচ কমবে বলে আভাস বেসরকারি থিংক ট্যাংক কনফারেন্স বোর্ড অব কানাডার (সিবিসি)।

সিবিসি’র হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে করপোরেট লাভ ১০ হাজার ৪৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের অর্ধেকে নেমে আসবে। বছরের বাকি সময়ও ২০২৩ সালের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল থাকবে, ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়লেও কমবে আয়।

এমএসএ