দেশে এখন
কৃষি
দিনাজপুরে সৌর বিদ্যুতে কম দামে সেচ সুবিধার সুফল পাচ্ছে কৃষক
গ্রীষ্ম মৌসুমের বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের দাম বাড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বারোমাস সেচ সুবিধা পাচ্ছেন দিনাজপুরের শত শত কৃষক। জেলার সাত উপজেলায় সোলার প্যানেলের সাহায্যে এ সুবিধা মিলছে। শুধু তাই নয়, এখানকার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডেও। এ প্রকল্প দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরের মাটি যেন শুধু ভূমি নয়, ফসল উৎপাদনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র। কী নেই এখানে। ধান, চাল, আলু, ভুট্টা, গম তো আছেই- একই সঙ্গে এ মাটিতে ফলছে রসুন, পেঁয়াজ, পটলসহ প্রায় সব ধরণের সবজি। এজন্যই বুঝি হিমালয় ঘেঁষা এ জনপদের আরেক নাম উত্তরের শষ্য ভাণ্ডার হয়েছে বহু বছর আগে।

কিন্ত উত্তরের কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ের বড় খাত হিসেবে বরাবরই কৃষকদের ভোগান্তির কারণ হয়ে সামনে আসে সেচ খরচের অংক। তবে সেই সমস্যা অনেকটা কমে গিয়েছে। সোলার প্যানেলের সাহায্যে এখন সেচ সুবিধায় ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি। এ প্রকল্পের হাতধরে কমেছে সময় ও খরচ।

একজন কৃষক বলেন, 'আগে ডিজেল দিয়ে পানি দিতে ১ বিঘা মাটিতে সময় লাগত ৬-৭ ঘণ্টা।  আর এখন সৌর বিদ্যুৎ হওয়ার কারণে পানি দিতে সময় লাগছে তিন ঘণ্টার মতো।'

আরেকজন বলেন, '৪টা সেচ দিতে আগে খরচ হতো ২৪শ' টাকা  আর এখন খরচ হচ্ছে ১৬শ' টাকার মতো।'

২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে সরকারি প্রণোদনা ১৭ লাখ ৬০ হাজার। প্রায় এক হাজার ছয়'শ ফুট পাইপলাইনের মাধ্যমে চলছে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ। দিনাজপুরের সাত উপজেলায় এমন ১৯টি পাম্পের মাধ্যমে প্রতিদিন সুবিধা পাচ্ছেন কয়েকশ কৃষক। এজন্য গুনতে হচ্ছে ঘণ্টায় মাত্র ১৫০ টাকা।

২০২১ সালের স্থাপিত এ সোলার পাম্প প্রকল্পকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ধরা হলেও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১০৬টি সোলার চালিত গভীর সেচ পাম্প। আশার খবর হলো, সেচ সুবিধা নেবার পর এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

এমন বাস্তবতায় এ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে দিনাজপুরের খানসামায় যান প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন করে তার আশাবাদ, এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। সাশ্রয় হবে জ্বালানি, স্বনির্ভর হবে দেশ। এসময় দেশজুড়ে এ সুবিধা ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।

তিনি বলেন, 'দেশব্যাপী এ প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়া এবং কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বিপ্লব করা যাবে, যেখানে আমাদের কৃষি স্বনির্ভর হবে এবং আমাদের বিদ্যুৎ জ্বালানি সাশ্রয় হবে।'

এসময় দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর তাগিদ দেয়া হয়।

ইএ