পুঁজিবাজার
অর্থনীতি
থামছেই না পুঁজিবাজারের দরপতন
টানা পতনে গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৩০০ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসই’র প্রধান সূচক। শেয়ারবাজারের এমন অবস্থায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। জরুরি বৈঠক করেছে ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন। এমন অবস্থায়, হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গেল সপ্তাহে লাগাতার পাঁচদিন ও চলতি সপ্তাহের প্রথম দু'দিনেও সূচকের বড় পতন দেখেছে ঢাকার পুঁজিবাজার। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের লেনদেনে প্রধান সূচক পড়েছে ৮৪ পয়েন্ট। আর আগের দিন ডিএসইর প্রধান সূচক হারিয়েছে ৭০ পয়েন্ট। শুধু মার্চ মাসের ১২ দিনে ৪৪০ পয়েন্ট হারিয়ে প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সূচক দেখছে ডিএসই।

এমন অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, পড়ছেন দোলাচলে। ১৯ জানুয়ারি থেকে বাঁধাহীন লেনদেনে বাজারে গতি না ফেরায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়েছেন। তাই কয়েকদিন তুলে নেয়া ফ্লোর প্রাইস ফের আরোপের দাবি জানিয়ে মতিঝিলে মানববন্ধন করেন সংক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।

একজন বিনিয়োগকারী বলেন, 'শুধু এক সপ্তাহ বাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। বিনিয়োগকারীদের আবারও স্বপ্ন জেগেছিল যে এ বাজারে আবারও ইনভেস্ট করবো। আবারও আমাদের হারানো পুঁজি ফিরে পাবো। তবে এটা বেশিদিন স্থায়ী থাকেনি।'

এদিকে, মার্জিন ঋণ নেয়া অনেকে শিকার হচ্ছেন ফোর্সড সেলের। এরসঙ্গে নিম্নমানের শেয়ারে কারসাজি, নতুন বিনিয়োগ না আসা বা গুজব থেকে বাড়ছে ভীতি। এমন অবস্থায় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সিদ্ধান্ত বাজারকে যেন অস্থিতিশীল না করে তা নিশ্চিত করার দাবি বাজার বিশ্লেষকদের।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আহমেদ রশিদ লালী বলেন, 'যেহেতু ২৫০টি কোম্পানির কোনো ট্রেড হচ্ছে না। সেজন্য সব বিনিয়োগকারী ওই লো-পেইড আপ কোম্পানি এবং জেড গ্রুপ কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ শিফট করে ফেলেছিল। এবং ওই শেয়ারগুলো যখন আবার জেড গ্রুপে চলে গেলো তখন মানুষের কনফিডেন্স খুব ঘাটতি হয়েছে।'

রোববার (১৭ মার্চ) ফ্লোর ভেঙে টেলিকম কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। যা এদিন প্রধান সূচকের এক চতুর্থাংশ কমার কারণ। এছাড়া বড় পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর সূচকে প্রভাব ফেললেও, বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব শেয়ারের প্রতি লক্ষ্য রেখে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ বাজার বিশ্লেষকদের।

এমএসআরএস