ইসরাইলি আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষায় সীমান্ত পেরিয়ে মিশরে আশ্রয় নিয়েছেন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বহু ফিলিস্তিনি। সীমান্তের দুই পাশে বসবাসের কারণে সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ নেই অনেক আপনজনের। এই যেমন ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে বাগদত্তা আসমা থেকে বিচ্ছিন্ন যুবক আহমেদ। একনজর দেখার জন্য ভিডিও কলই একমাত্র ভরসা।
ইসরাইলের একের পর এক শর্তে বারবার দীর্ঘ হচ্ছে মিশর-গাজা সীমান্ত খোলার সময়সীমা। অথচ ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির সময়ই খুলে দেয়ার কথা ছিলো রাফা ক্রসিং। দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
বৈঠক শেষে রোববারও শর্তারোপ করলো তেল আবিব। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, শেষ ইসরাইলি জিম্মি বা পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির মরদেহ খুঁজে পেলেই রাফা ক্রসিং খুলে দেবে তারা। তবে তাও পুরোপুরি বা উভয় পাশ থেকে নয়। অর্থাৎ সীমিতভাবে চলাচলের জন্য গাজা-মিশর সীমান্তটি একপাশ থেকে খুলে দেবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। অথচ ইতোমধ্যেই শেষ জিম্মির মরদেহটির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করছে হামাস। সেখানে ইসরাইলি বাহিনী উদ্ধার তৎপরতাও চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মরদেহটির অবস্থান সম্পর্কে জানার পরও সীমান্ত খোলার ব্যাপারে শর্তারোপে ফিলিস্তিনিদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি চলমান দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ থামায়নি ইসরাইলি বাহিনী। আরও সম্প্রসারিত করছে তথাকথিত ইয়েলো লাইন। ছোট হয়ে আসছে ফিলিস্তিনিদের এলাকা। এতে আরও কঠিন হয়ে উঠছে গাজাবাসীর জীবন।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মৃত্যু আতঙ্ক দূর হয়নি লাখ লাখ মানুষের। তাই বোর্ড অফ পিস অকেজো বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা।
ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বলেন, এটাই কি শান্তি, এর নাম যুদ্ধবিরতি? তারা কিসের শান্তির কথা বলছে। আমারা কেউ শান্তিতে নেই। বোর্ড অফ পিস অকেজো এবং আমাদের কোনও উপকারে আসবে না। ইহুদিরা এখনও আমাদের হত্যা করছে।
রোববার একদিনে আরও ৩ ফিলস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৪৮৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২১ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ৭১ হাজার ৬শ' ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজা থেকে দ্রুত ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে মিশর। এমনকি রাফা ক্রসিং পুরোপুরি খুলে দেয়ারও দাবি জানিয়েছে কায়রো।
এদিকে পশ্চিম তীরেও দখলদারিত্ব দিন দিন বাড়াচ্ছে ইসরাইল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বোর্ড অফ পিসকে খারাপ পরিকল্পনা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের বসতি স্থাপন বিষয়ক মন্ত্রী ওরিট স্টোক। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় ইসরাইলি সেনারা বিপদে পরার পাশাপাশি মন্ত্রীত্ব থেকে তাকে পদত্যাগ করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের দখলদার মন্ত্রী ওরিট স্টোক।





