চুক্তি
অর্থনীতি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপান
এই প্রথম জাপানের মত বড় দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাপানের বাজারের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

এছাড়া বাংলাদেশের ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপান বিনিয়োগ করতে পারবে। আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব ও জাপানের রাষ্ট্রদূত।

জাপান-বাংলাদেশের সম্পর্কের গোড়াপত্তন ১৯৭২ সালে। পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জাপান। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রে সমূহ-সম্ভাবনার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে দেখেছেন জাপানিরা। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ঋণ, অনুদানসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পেও রয়েছে জাপানিদের অবদান।

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাপান থেকে সরাসরি বিনিয়োগ ৭.৬১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় দেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগ ৩৮০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। মূলত তৈরি পোশাক, ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন, হেলথকেয়ার ও মোটরসাইকেল খাতে সরাসরি বিনিয়োগ এসেছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপানে বাংলাদেশ প্রথম রপ্তানি করে। ২০১১ সালে জাপান রুলস অব অরিজিন শিথিল করে এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলো নিটওয়্যার পণ্য আমদানিতে শুল্ক তুলে নেয়া শুরু করলে সেখানে পোশাকের চালান বেড়ে যায়। ২০১৯-২০ সালে করোনা মহামারির সময়ও জাপানের বাজার বাংলাদেশিদের জন্য বড় ভূমিকা রাখে।

ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে খুব শিগগিরই অর্থনৈতিক সম্পর্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপান। আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনে গঠিত জয়েন্ট স্টাডি গ্রুপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে উঠে আসে বেশ কিছু বিষয়।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, প্রথমবারের মত জাপানের মত একটি বড় দেশের সাথে যৌথ অর্থনৈতিক সম্পর্ক চুক্তি হতে যাচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে জাপানে বরাবরই শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চায়। এটা দুইদেশের সম্পর্কের জোরেই চলবে। প্রশ্ন থাকতে পারে, ইপিএ'র বাস্তবায়ন নিয়ে। যাচাই করলে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে, কেননা অতীতে থেকেই দুইদেশ অর্থনৈতিক খাতে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করেই চলছে। এটা সত্য, পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় উভয় দেশই অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে, তবে এটাও মাথায় রেখে সমাধানটাও দুই দেশ মিলেই করছে।

নতুন এই চুক্তি হলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের সমস্যা সমাধান করা হবে। এতে করে দেশে শিল্প উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

এমএসএ