কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
দেশে এখন

ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসল

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের ফসল। পদ্মা ও মধুমতি চরাঞ্চলের ৪টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে একই অবস্থা। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিতে প্রতিদিনই ঢুকছে পানি। এতে চাষ করা চিনা বাদাম পরিপক্ব হওয়ার আগেই পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

পদ্মার চরাঞ্চলে জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে বাদাম তুলতে ব্যস্ত কৃষান-কৃষানীরা। ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর চরাঞ্চলের বেলে মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কিন্তু এ বছর প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে ফলন আশানুরূপ হয়নি। সম্প্রতি পদ্মা নদীর পানি বেড়ে খেত ঢোকায় তুলে ফেলতে হচ্ছে অপরিপক্ব বাদাম।

জেলায় চলতি মৌসুমে চিনা বাদামের আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৮০০ কেজি বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

চাষিরা বলছেন, বিঘা প্রতি বাদাম চাষে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ থেকে ১২ মণ। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ ফলন হতে পারে।

এক বাদাম চাষি বলেন, 'হাজার হাজার বিঘা বাদাম বন্যার পানিতে ডুবে যাইতেছে। সবাই কাঁচা বাদাম উঠাতে বাধ্য হচ্ছে।'

চরের অন্যতম অর্থকরী ফসল বাদামের উৎপাদন ব্যাহত হলে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষক। তবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'বাদামের জীবনকাল ১৩০-১৪০ দিন। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে কিছু বাদাম নষ্ট হচ্ছে। আমরা কৃষকদের অনুরোধ করছি বাদামটা যেন খরার সময় উঠায়। কারণ বৃষ্টির সময় উঠালে বাদামের রঙ নষ্ট হয়ে যাবে। ভালো মূল্য পাবে না।'

ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, 'বর্ষা যখন আসে তখন কিন্তু চরের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার বৃষ্টি না নামলেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগ লেগেই থাকে। তাই কৃষককে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ প্রয়োজন।'

চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ২৩০ টন বাদামের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজার মূল্য রয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর