অভিযানে হাসপাতালে ব্যবহৃত কম্বল কেনাকাটা ও রোগীদের খাবার সরবরাহে প্রাথমিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। বিশেষ করে হাসপাতালের রোগীদের জন্য কেনা কম্বলের মান ও দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দের তুলনায় নিম্নমানের কম্বল কেনা হয়েছে এবং বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কেনাকাটা করা হয়েছে।
এছাড়া, রোগীদের খাবার সরবরাহে ঘাটতির বিষয়টিও দুদকের নজরে আসে। তদন্ত কর্মকর্তারা হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিটি রোগীর জন্য ২২০ গ্রাম মাছ বরাদ্দ থাকলেও ১৫৫ গ্রাম করে মাছ দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের বেশ কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে এবং খাবারের পরিমাণও প্রয়োজনের তুলনায় কম দেয়া হয়।
দুদকের অভিযানের অংশ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল কেনাকাটার হিসাব আগামী রোববারের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের সেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে দুদক।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সৌমেন চৌধুরী বলেন, 'দুদক আজ আমাদের হাসপাতালে অভিযানে আসে। তারা আমাদের হাসপাতালের ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল কেনাকাটার হিসাব আগামী রোববারের (২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।
এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ বলেন, 'আমরা হাসপাতালে এসে বিগত দুই তিন বছরের কেনাকাটার স্টক যাচাই করি। একটি অভিযোগ ছিল কম্বল কমদামে কিনে বেশি দামে বিল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে নিম্নমানের কম্বল কেনা হয়েছে। যেখানে বড় রকমের একটি আর্থিক অনিয়ম হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আমরা রোগীদের সাথে কথা বলি। তারপর দেখি অনেক কম্বল হাসপাতালের আলমারিতে আছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা পরে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখি রোগীদের জন্য বরাদ্দ ২২০ গ্রাম মাছ দেয়ার কথা থাকলেও ১৫৫ গ্রাম করে মাছ দেয়া হচ্ছে। রোগীদের সঠিকভাবে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না। এগুলো আমরা নোট করে নিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডারের সকল তথ্য চেয়েছি। তারা এগুলো দিলে আমরা কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবো। আমরা কোনো ধরনের আইনের ব্যত্যয় ও আর্থিক অনিয়ম পাই তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।'
দুদকের এ অভিযানে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।