বিদেশে এখন , বিশ্ব অর্থনীতি
অর্থনীতি

জ্বালানি তেল রপ্তানিতে বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে রাশিয়া

জ্বালানি তেল রপ্তানিতে পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীল হলেও এখন বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে রাশিয়া। সামরিক, কূটনৈতিক আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এখন এশিয়ার দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক আর সামরিকভাবে এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিপাকে পড়তে পারে পশ্চিমা বিশ্ব।

ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরুর পর বাণিজ্য ও কূটনৈতিক দিক থেকে রাশিয়াকে কোণঠাসা করে রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু উল্টো চাল দিলো পুতিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রাশিয়া এখন ঝুঁকছে এশিয়ার দিকে। সংবাদ মাধ্যম সিএনএন বলছে, উত্তর কোরিয়া সফরে কিম জং উন যেভাবে ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে পুতিন এখনও পুরো বিশ্বে কোণঠাসা হননি। এখনও অনেক দেশে তার উপস্থিতি, প্রভাব আর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানই পিয়ংইয়ং ও মস্কোকে এক সূত্রে বেধেছে। পশ্চিমা বিশ্বকে টেক্কা দিতে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত দুই দেশই। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির অন্যতম হলো কোনো দেশ যদি হঠাৎ সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, সঙ্গে সঙ্গে সমরাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা দেবে আরেক দেশ। যেই অনুশাসন রয়েছে ন্যাটো সদস্যভূক্ত সব দেশের মধ্যেই। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, যৌথভাবে সামরিক মহড়া চালাতে পারে দুই দেশ। তৈরি করতে পারে ন্যাটোর মতো নতুন প্রতিরক্ষা জোট। যে জোটে ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে আরও দেশ।

এই চুক্তিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। কারণ সামরিক সমঝোতার মানে, উত্তর কোরিয়ার কারখানা থেকে সমরাস্ত্র যেতে পারে ইউক্রেনের যুদ্ধের ময়দানে, যেহেতু পুতিন আছেন অস্ত্রের সংকটে। কোরিয়ার গবেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানান দিতে যে, দুই দেশের কোনো দেশই কোণঠাসা নয়। সেজন্য এই সফর জরুরি হলেও সামরিক সমঝোতার একটা সীমা থাকা প্রয়োজন ছিলো। এই সামরিক সমঝোতা বিশ্বের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরা বলছে, ভিয়েতনামের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্ব অনেক পুরনো। যদিও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভিয়েতনাম গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কও ভিয়েতনামের কাছে প্রাধান্য পায়। ১৯৫০ সালের নর্থ ভিয়েতনাম থেকে এখনকার ভিয়েতনাম পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক, অর্থনৈতিক আর সামরিক সমর্থন অব্যাহত আছে এখন পর্যন্ত।

বর্তমানে ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রাশিয়া পেছনে পড়ে গেছে চীন, এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছে। অথচ ভিয়েতনাম এখনও দক্ষিণ চীন সাগরে রুশ কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানির অনুন্ধধান চালাচ্ছে রাশিয়ার যন্ত্রপাতি দিয়েই। যে কারণে ভিয়েতনামের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী রাশিয়া।

এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গেও প্রতিবছর বাড়ছে রাশিয়ার বাণিজ্য। তবে থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার অনেক দেশই আবার ইউক্রেনে সেনা অভিযানের বিপক্ষে। যে কারণে ভিয়েতনাম ঠিক কতোদিন ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এরমধ্যেই সামরিক নির্ভরতার জন্য বিকল্প বাজার খুঁজছে হ্যানয়। যদিও রাশিয়ার ওপর এই নির্ভরতা কাটাতে সময় লাগবে অনেক বছর।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর  

No Article Found!